দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) অবকাঠামোর দ্রুত উন্নয়নে ৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ‘জ্বালানি নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটি’ গঠন করেছে সরকার। গত সোমবার (১ জুন, ২০২৬) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং কৌশলগত জ্বালানি নীতি প্রণয়নে গতি আনতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে এই নবগঠিত কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।
কমিটির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যায়, এতে রাষ্ট্রের আর্থিক, কূটনৈতিক ও কারিগরি খাতের নীতিনির্ধারকদের যুক্ত করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী; পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা; ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা। এ ছাড়া প্রশাসনিক ও বিনিয়োগ সমন্বয় সহজ করতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ অর্থ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই বিশেষ উপকমিটির মূল কার্যপরিধি বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (ToR) অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। কমিটি বাংলাদেশের সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা খাত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলপিজি আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করা, ভোলা অঞ্চলের আবিষ্কৃত গ্যাস ক্ষেত্র থেকে মূল ভূখণ্ডে গ্যাস পরিবহনের কৌশল নির্ধারণ, সমুদ্র উপকূলে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) নির্মাণ এবং স্থলভিত্তিক (Land-based) এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল স্থাপনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মেগা প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা দ্রুত পরীক্ষা করে তা বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
নীতিমালা প্রণয়ন ও কারিগরি জটিলতা নিরসনে কমিটিকে ব্যাপক প্রশাসনিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপকমিটি তাদের কাজের সুবিধার্থে যেকোনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সংস্থা, খাতসংশ্লিষ্ট জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বেসরকারি খাতের অংশীজনদের (Stakeholders) কাছ থেকে পরামর্শ বা মতামত গ্রহণ করতে পারবে। এমনকি প্রয়োজনবোধে যেকোনো বিশেষজ্ঞ বা কর্মকর্তাকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার বিশেষ ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে নিয়মিত সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটির জরুরি নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হবে।



