ঝালকাঠি শহরের টিএনটি রোড এলাকায় চুরির বাধা দিতে গিয়ে গৃহবধূ মলিনা রায়কে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয় আসামি জুয়েল ওরফে নয়ন ডাকুয়াকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঢাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটকের পর ঝালকাঠিতে এনে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তা ও পূর্ববর্তী আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি রিতোষকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত রিতোষ নিহত মলিনা রায়ের ভবনেরই তৃতীয় তলার ভাড়াটিয়া ছিলেন। রথযাত্রার উৎসব উপলক্ষে ভবনের অধিকাংশ ফ্ল্যাট ফাঁকা থাকার সুযোগে, তিনি সহযোগী জুয়েলকে সাথে নিয়ে চুরির উদ্দেশ্যে তপন রায়ের দ্বিতীয় তলার বাসায় প্রবেশ করেন।
তদন্তকারীদের বিবরণ অনুযায়ী, দরজা ভাঙার শব্দ শুনে গৃহবধূ মলিনা রায় জেগে ওঠেন এবং প্রতিবেশী রিতোষকে চিনে ফেলেন। পরিচয় গোপন রাখতে এবং ধরা পড়ার ভয়ে আসামিরা মলিনা রায়ের মুখ চেপে ধরেন এবং হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটিকে সাধারণ চুরি হিসেবে চালিয়ে দিতে প্রধান আসামি নিজের ভাড়াকৃত ঘরের জিনিসপত্রও এলোমেলো করে রেখে আত্মগোপন করেন।
ঝালকাঠি সদর থানার কর্মকর্তা (তদন্ত) মেহেদী হাসান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুনির্দিষ্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে আসামিদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়েছে। ক্লুলেস এই ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচনের পর বাকি আইনি কার্যক্রম দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।



