― Advertisement ―

জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই এগোবে আইন মন্ত্রণালয়; প্রথম দিনেই বড় অঙ্গীকার

বাংলাদেশের বিচারিক ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পাহাড় সমান প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়েছেন নবনিযুক্ত আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার সচিবালয়ে তাঁর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের...

পরকীয়া সম্পর্কের জেরে স্ত্রী ও প্রেমিকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্কের (পরকীয়া) জেরে মুকুল মল্লিক নামের এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে নিহতের স্ত্রী, তার প্রেমিকসহ তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন, ২০২৬) দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ জনাকীর্ণ আদালতে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—নিহত মুকুল মল্লিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, তার কথিত প্রেমিক আলমগীর হোসেন এবং হত্যাকাণ্ডের অন্যতম সহযোগী বিল্লাল হোসেন। মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে হরিণাকুণ্ডুর নিজ বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন মুকুল মল্লিক। নিখোঁজের এক সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশ উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের বাঘমারা মাঠের একটি নির্জন স্থান থেকে মুকুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তে স্পষ্ট হয় যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের মা আর্জিনা বেগম বাদী হয়ে হরিণাকুণ্ডু থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও থানার তদন্ত কর্মকর্তা গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পারেন, নিহতের স্ত্রী ফিরোজা খাতুনের সাথে আসামি আলমগীরের পরকীয়া সম্পর্কই ছিল এই খুনের মূল মোটিভ। অনৈতিক সম্পর্কের পথ পরিষ্কার করতে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মুকুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৬ জুন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

আদালত দীর্ঘ আট বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনি যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা করে তিন আসামির অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এই যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার অপর দুই আসামিকে আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ফিরোজা খাতুন ও বিল্লাল হোসেন আদালতে উপস্থিত থাকলেও মূল হোতা ও পরকীয়া প্রেমিক আলমগীর হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে কঠোর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন।