খাবারে ভেজাল বা কৃত্রিম উপায়ে ওজন বাড়িয়ে ক্রেতাদের ঠকানোর প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের আনন্দবাজারে এমনই এক অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে আনন্দবাজারে এক ঝটিকা অভিযানে দেখা যায়, ক্ষতিকর জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছ বিক্রি করছেন সুমন মিয়া নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী। ওজনে কারচুপি করতে এবং মাছকে সতেজ দেখাতে এই বিষাক্ত জেলি ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ওই ব্যবসায়ীকে তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী। তিনি জানান, বাজার মনিটরিংয়ের নিয়মিত অংশ হিসেবে এই তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা হয় প্রায় ৫০ কেজি জেলিযুক্ত চিংড়ি মাছ। এই বিপুল পরিমাণ বিষাক্ত মাছ পরবর্তীতে জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়, যাতে তা পুনরায় বাজারে প্রবেশ করতে না পারে। চিংড়িতে ব্যবহৃত এই জেলি মানুষের লিভার, কিডনিসহ শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে আসছেন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এই পদক্ষেপ স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি বয়ে এনেছে। সাধারণ মানুষ দাবি জানিয়েছেন, কেবল একটি বাজারে নয়, বরং পুরো জেলার মাছের আড়তগুলোতে যেন নিয়মিত এ ধরনের তদারকি চালানো হয়। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজান ও আসন্ন দিনগুলোতে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে তাঁদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। অসাধু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেললে আইন অনুযায়ী আরও কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে।



