আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাঠপর্যায়ের একজন সহযোগীর ঘরেই নিষিদ্ধ মাদক চাষের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় এক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সদস্যের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি জীবন্ত গাঁজা গাছ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই রাতে উপজেলার ভিন্ন একটি এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে ১০টি ইয়াবা বড়িসহ আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত শনিবার (২৭ জুন, ২০২৬) রাতে উপজেলার ধরঞ্জী ও বালিঘাটা ইউনিয়নে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান আজ রোববার বিকেলে গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের পূর্ব উচনা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ সদস্য আমিন উদ্দিন (৪২) এবং বালিঘাটা ইউনিয়নের পুটারবিল গ্রামের বাসিন্দা লিটন (২৫)। মাদক দমনের দায়িত্বে পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বাড়ি থেকেই সরাসরি মাদকের গাছ উদ্ধার হওয়ার এই ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
পাঁচবিবি থানার ওসি আব্দুল হাফিজ মো. রায়হান অভিযানের বিবরণ দিয়ে জানান, নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ গোপন সূত্রে একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য হাতে পায়। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে শনিবার গভীর রাতে পূর্ব উচনা গ্রামে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ আমিন উদ্দিনের বাড়িতে আচমকা হানা দেয় পুলিশের একটি বিশেষ দল। তল্লাশিকালে তাঁর আঙিনা বা বাড়ি সংলগ্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে রোপণ করা ও যত্ন সহকারে বড় করা একটি গাঁজা গাছ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং অপরাধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার দায়ে আমিন উদ্দিনকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন পৃথক একটি আভিযানিক দল সন্ধ্যায় পুটারবিল এলাকায় মাদক কারবারি লিটনের বাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর ঘর থেকে ১০টি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে লিটনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। ওসি জানান, সরকারি আইন ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে এ দুটি ঘটনায় পাঁচবিবি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হলেও গ্রাম পুলিশ আমিনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।



