ইরানের সাথে সামরিক উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে মার্কিন নাগরিকদের বড় অংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জনমত জরিপ অনুযায়ী, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছেন। প্রায় ৬৯ শতাংশ নাগরিকের অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন অভিযানের কৌশলগত লক্ষ্য ও চূড়ান্ত উদ্দেশ্য স্পষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই এই যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন ৪০ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। ২০০১ সালের আফগানিস্তান যুদ্ধ কিংবা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সূচনালগ্নে যে ব্যাপক জনসমর্থন ছিল, বর্তমান সঙ্ঘাতের ক্ষেত্রে তা দেখা যাচ্ছে না। তবে রিপাবলিকান ও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জনমত জরিপের ওপর ভিত্তি করে সামরিক নীতি নির্ধারণ করা হয় না; বরং ইরানকে পারমাণবিক শক্তি অর্জন থেকে বিরত রাখাই মার্কিন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
প্রত্যাশার চেয়ে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ও ১৮ জন মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অনাকাঙ্ক্ষিত সঙ্ঘাতে না জড়ানোর যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার বিপরীতমুখী হওয়ায় ট্রাম্পের নিজস্ব দলীয় সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক সামরিক সঙ্ঘাতের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নির্বাচনে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আভাস দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।



