কুমিল্লায় তৃতীয় শ্রেণির নয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় মফিজুল ইসলাম মফু নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক শুনানি শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মফু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে কড়া নিরাপত্তায় কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নথিপত্র ও মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের উক্ত শিশুটি স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। শিশুটি ঘরে না ফেরায় স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালাতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্থানীয় একটি ধানক্ষেত থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের স্কুলব্যাগ, পরনের পোশাক ও জুতা আলামত হিসেবে জব্দ করে।
তদন্তকারীদের তথ্য মতে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল এবং ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা অভিযুক্ত মফুকে এলাকা ছেড়ে দ্রুত পালাতে দেখেন। মর্মান্তিক এ ঘটনার পরদিন নিহতের মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ থানায় মফিজুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মগোপনে চলে গেলেও ঘটনার তিন দিনের মাথায় চাঁদপুরে র্যাবের এক অভিযানে তিনি ধরা পড়েন। পরবর্তীতে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং ফরেনসিক ডিএনএ পরীক্ষায়ও তার সংশ্লিষ্টতার সত্যতা মেলে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদিউল আলম সুজন জানান, আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার মাত্র ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুততম সময়ে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার এই রায় সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী নজির স্থাপন করবে।



