― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

ঝালকাঠিতে ফ্ল্যাটে নারীর বস্তাবন্দি লাশ!

ঝালকাঠি জেলা শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ঘরের ভেতর থেকে এক নারীর বস্তাবন্দি নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার রাতে শহরের টিএন্ডটি সড়কের একটি ভাড়া বাসা থেকে মলিনা রায় (৫৫) নামের ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা-পুলিশ। ঘটনার সময় ওই ভবনের একাধিক ফ্ল্যাটে চুরির বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

নিহত মলিনা রায় ঝালকাঠি শহরের টিএন্ডটি সড়কের বাসিন্দা তপন হালদারের মালিকানাধীন বহুতল ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে সপরিবারে ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক পরিমণ্ডলে তিনি একজন অত্যন্ত শান্ত ও গৃহিণী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শুক্রবার ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাইরে থাকায় তিনি বাসায় একাই অবস্থান করছিলেন।

পুলিশ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে মলিনা রায়ের পরিবারের অন্য সদস্যরা কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ভীমরুলি এলাকায় রথযাত্রা উৎসবে অংশ নিতে বাসা থেকে বের হন। এরপর সারাদিন উৎসব শেষে সন্ধ্যার দিকে তারা বাসায় ফিরে আসেন। কিন্তু ভবনে প্রবেশ করতেই তারা দেখতে পান বাসার প্রধান ফটক বা মেইন গেটের দরজাটি সম্পূর্ণ খোলা অবস্থায় রয়েছে।

ভিতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান পুরো ঘরের আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র ভাঙচুর ও এলোমেলো অবস্থায় ছিটকে পড়ে আছে। ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে একটি কক্ষের কোণে বস্তাবন্দি অবস্থায় মলিনা রায়ের মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখেন তারা। এই বীভৎস দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাথমিক ধারণা, পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে শুক্রবার দুপুরের পর কোনো এক সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত ডাকাতি বা চুরির উদ্দেশ্যে ওই ভবনে প্রবেশ করে। সে সময় বাসায় একা থাকা মলিনা রায় তাদের চিনে ফেলায় কিংবা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় দুর্বৃত্তরা তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যা করে। এরপর লাশটি লুকিয়ে রাখতে বস্তাবন্দি করে রাখা হয়। একই সাথে ভবনের আরও দুটি ফ্ল্যাটেও অপরাধীরা লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ঝালকাঠি সদর থানা-পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিশাল পুলিশ দল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মলিনা রায়ের মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। এছাড়া অপরাধীদের শনাক্ত করতে ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছেন।

ঘটনার তদন্ত পরিস্থিতি নিয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস.এম. বায়জীদ ইবনে আকবর জানান, পুলিশ খবর পাওয়া মাত্রই অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পদক্ষেপ নিয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।