বাংলাদেশে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বাড়াতে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ ও জাপান। সম্প্রতি ঢাকায় আয়োজিত ‘জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্স’-এ উভয় দেশের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য বিস্তার, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে নতুন অংশীদারিত্বের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো ও পরীক্ষিত মিত্র। নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম খালেদা জিয়া মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ডিগ্রি স্তর পর্যন্ত নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ওপর জোর দেন তিনি।
জাপানি রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, তরুণ জনসংখ্যা অধ্যুষিত বাংলাদেশে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত ‘ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ (EPA) দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আরও সুদৃঢ় করবে। একই সাথে তিনি স্বীকার করেন যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে জাপান এখনো বাংলাদেশের সফলতার মডেল থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে, যা দুই দেশের সামাজিক বিনিময়কে নতুন মাত্রা দেবে।
জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (JBCCI) এবং জেট্রো (JETRO) আয়োজিত এ সম্মেলনে নারী-পরিচালিত ব্যবসাগুলোকে আন্তর্জাতিক রফতানি বাজারে যুক্ত করতে একটি স্থায়ী উইমেন প্লাটফর্ম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে করে ঋণ সুবিধা, কর্পোরেট নেটওয়ার্কিং এবং প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ সহজতর হবে। শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মনে করেন, নারী নেতৃত্বকে কেবল ক্ষুদ্র উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ ও বোর্ড পর্যায়ে উন্নীত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।



