― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

ইসি’র ভূমিকা নিয়ে বিএনপি-জামায়াতে টানাপোড়েন

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। তবে এই নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

উভয় দলই আলাদা আলাদাভাবে ইসি’র নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ করছে। নির্বাচনে থাকা প্রধান এই দুই দলের ইসিকে নিয়ে আস্থার সংকট ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

গতকাল রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে অভিযোগ করে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটার এনে ঢাকার আসনগুলোতে নিজেদের পক্ষে ভোটার তালিকাভুক্ত করছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ভোটারদের সংখ্যা ও তারা কোন এলাকা থেকে এসেছেন, সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারা নির্বাচনে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, মনোনয়ন যাচাইয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের মতো একই ধরনের অভিযোগে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিএনপি মহাসচিবের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে অন্তরায় হতে পারে। তবে বিদ্যমান ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধান করলে এই কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

সাম্প্রতিক কালে দল দুটির কেন্দ্রীয় নেতারা সভা সমাবেশে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি নানা ধরণের বক্তব্য দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আলোচনায় আসছিলেন। তবে এটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছে দুই দলের দুই শীর্ষ নেতাও সেই ধারায় বক্তব্য রাখার পর।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত ১১ই নভেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে এক বক্তৃতায় বলেন, “জামায়াতের টিকিট কাটলেই কি কেউ বেহেশতে যেতে পারবে? যারা এসব মুনাফেকি করে, তাদের কাছ থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে”।

এরপর ২০শে নভেম্বর খুলনায় এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। তারা বর্তমানে মাহফিলে বাধা দেয়, মা–বোনদের তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়। এটি করে তারা জামায়াতকে নয়, মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে।

এদিকে বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের পরস্পরকে সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে উভয় দলের কর্মী ও সমর্থকদেরকেও। নিজ দলের প্রশংসা ও প্রতিপক্ষ দলকে ইঙ্গিত করে সমালোচনামূলক নানা পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

এদিকে, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকার বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, তারা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এই দুই দলের নেতাদের বক্তব্য শুনে তার মনে হয়েছে যে তারা উভয়েই একে অন্যকে ঘায়েল করার চেষ্টা করছে। তার ধারণা, এটি চলতে থাকলে ভোটের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।