বিদেশে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় আর্থিক অনুদান এবং প্রবাসী কল্যাণ ঋণ মঞ্জুরির নামে অনৈতিকভাবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে তিন কর্মচারীকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার (২৩ মে, ২০২৬) সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের এক জরুরি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা হলেন—ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন, অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পিয়ন মো. শামিম। একজন মৃত প্রবাসীর অসহায় পরিবারের অনুদানের টাকা ছাড়ানোর নাম করে এই কর্মচারীদের প্রকাশ্য ঘুষ গ্রহণের ঘটনাটি প্রশাসনিক মহলে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধান ও অফিশিয়াল অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে কর্মকালীন সময়ে মৃত্যুবরণকারী ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাতলাশী গ্রামের প্রবাসী কর্মী মো. কাইয়ুমের (মরহুম মো. হাফিজ উদ্দিনের ছেলে) পরিবার সরকারের কল্যাণ তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান পাওয়ার আবেদন করেছিল। এই অনুদান প্রদানের ফাইলটি দ্রুত ছাড় করার নাম করে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন নিরাপত্তা প্রহরী শফি উদ্দিন ও অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায়। অন্যদিকে, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম ব্যাংক থেকে পুনর্বাসন ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আরেকজন ভুক্তভোগী প্রবাসীর কাছ থেকে অনৈতিকভাবে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেন।
অসহায় প্রবাসী পরিবারের কাছ থেকে এভাবে টাকা আত্মসাতের লোমহর্ষক বিষয়টি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের নজরে আসে। তিনি কালবিলম্ব না করে আজ দুপুরে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (DG) এবং মূল অভিযোগকারীদের সাথে নিয়ে অভিযুক্তদের দপ্তরে এক ঝটিকা ও অতর্কিত ছদ্মবেশী অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে ভুক্তভোগীদের মুখোমুখি করে দীর্ঘ জেরার পর ঘুষ গ্রহণের অকাট্য সত্যতা ও ভিডিও ফুটেজের প্রমাণ পান প্রতিমন্ত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার স্বার্থে অভিযুক্তদের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে কঠোর নির্দেশ দেন।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপিত অফিস আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকারি কর্মচারীদের এমন জঘন্য ও নীতিবর্জিত আচরণ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম ও ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে, যা চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। আজ ২৩ মে থেকেই এই আদেশ কার্যকর করা হয়েছে এবং বরখাস্তকালীন সময়ে তাঁরা কেবল প্রচলিত বিধি মোতাবেক খোরপোশ ভাতা (Subsistence Allowance) পাবেন। ঘটনার পর এক কড়া হুঁশিয়ারি বার্তায় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, “দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সেবা প্রদানে দেশে কিংবা বিদেশের দূতাবাসে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। প্রবাসীদের রক্ত পানি করা টাকা নিয়ে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর গাফিলতি ও অনৈতিকতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”



