― Advertisement ―

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি, পাল্টা ব্যবস্থা ভাবছে ইউরোপ

গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি আদায়ের লক্ষ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রধান রাষ্ট্রগুলো।

জার্মানি, ফ্রান্সসহ একাধিক দেশ এ হুমকিকে সরাসরি “ব্ল্যাকমেইল” হিসেবে অভিহিত করেছে এবং সম্ভাব্য পাল্টা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে।

গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার সুযোগ না দেওয়া হলে ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডসহ ইইউভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি ব্রিটেন ও নরওয়ের ওপর ধাপে ধাপে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে।

এসব দেশ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আটটি দেশই ডেনমার্কের এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপে সীমিতসংখ্যক সামরিক সদস্য মোতায়েন করেছে। তবে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই সামরিক মহড়া আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এবং কারও জন্য হুমকি নয়।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, “ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না।” জার্মানির অর্থমন্ত্রী ও সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীও একই সুরে কথা বলেন। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ভ্যান উইল টেলিভিশনে বলেন, “ট্রাম্প যা করছেন, তা স্পষ্টতই ব্ল্যাকমেইল।”

সমন্বিত ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া
ইইউর বর্তমান ঘূর্ণায়মান সভাপতি দেশ সাইপ্রাস রবিবার রাতে ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের তলব করে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে।

নরওয়ে সফররত ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, হুমকির মুখেও ডেনমার্ক কূটনৈতিক পথেই থাকতে চায়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের চুক্তি হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ইইউর অ্যান্টি-কোয়ার্সন ইনস্ট্রুমেন্ট সক্রিয় করার পক্ষে চাপ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরকারি টেন্ডার, বিনিয়োগ, ব্যাংকিং কার্যক্রম বা ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যেতে পারে। তবে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেছেন, পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনই তা কার্যকর করা “কিছুটা আগেভাগে” হবে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও শুল্ক হুমকিকে “ভুল সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্পের সঙ্গে তার কথা হয়েছে এবং তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।

ব্রিটেনের অবস্থান ‘অপরিবর্তনীয়’
ব্রিটেনের সংস্কৃতিমন্ত্রী লিসা ন্যান্ডি বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিষয়ে ব্রিটেনের অবস্থান “অপরিবর্তনীয়” এবং মিত্রদের মধ্যে কথার লড়াই নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান জরুরি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক হুমকির ফলে মে মাসে ব্রিটেনের সঙ্গে এবং জুলাইয়ে ইইউর সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এখন ইইউ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ভোট স্থগিত করতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

জার্মান আইনপ্রণেতা ইয়ুর্গেন হার্ড্ট এমনকি শেষ উপায় হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের প্রস্তাবও দিয়েছেন, যা ট্রাম্পকে “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সচেতন করতে” পারে বলে তার মন্তব্য।

সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (রয়টার্স অবলম্বনে)