ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে সাতশরও বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (পেন্টাগন) হালনাগাদকৃত আনুষ্ঠানিক তথ্যভান্ডারে এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।
বুধবার (২০ আগস্ট ২০২৬) পেন্টাগন তাদের ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম (ডিক্যাস) হালনাগাদ করে। নতুন তালিকায় আরও অন্তত ৫০ জন আহত সেনার নাম যুক্ত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা যখন পুরোপুরি অচলাবস্থায়, ঠিক তখনই এ তথ্য সামনে এল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘ডিক্যাস’ ডাটাবেজের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।
গত মাসে পেন্টাগন তাদের ডাটাবেজে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে নতুন একটি ক্যাটাগরি চালু করে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে হতাহত সেনাদের তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কোন নির্দিষ্ট সংঘর্ষে এরা হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়ে পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশদ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কংগ্রেসকে যে দিন থেকে সংঘাতের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়েছিল, সেই ৭ জুলাইয়ের তারিখের সঙ্গেই এই ডিক্যাস ডেটার সময়সীমা মিলে যায়।
এর আগে ডিক্যাসের তালিকা থেকে রহস্যজনকভাবে চার নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত সেনার নাম বাদ পড়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে পেন্টাগন। পরবর্তীতে বিষয়টি ‘সাময়িক ডাটাভিত্তিক ত্রুটি’ হিসেবে দাবি করে সেনা সদস্যদের নাম পুনর্যুক্ত করা হয়। এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের তথ্য ধীরগতিতে প্রকাশের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গোপনীয়তা রক্ষার অজুহাত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি ‘যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। তবে একই সময়ে তেহরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা স্থগিত রাখা এবং স্ট্র্যাটেজিক প্রণালী ‘হরমুজ’-এ চরম সামরিক টানাপোড়েন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সংকাট বাড়াচ্ছে।



