উদীয়মান বৈশ্বিক ঝুঁকি এবং বহুমাত্রিক সংকট মোকাবেলায় আসিয়ানসহ ‘ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন ইন সাউথইস্ট এশিয়া’ (টিএসি)-এর সব সদস্য রাষ্ট্রের সাথে একত্রে কাজ করার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত টিএসি-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সুবর্ণ জয়ন্তী সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের (এআরএফ) ৩৩তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে ম্যানিলা সফর করছেন তিনি।
সম্মেলনের বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মহামারী, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ধাক্কা, সাইবার হামলা এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলায় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এজন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু, সমন্বিত ঝুঁকি নিরূপণ এবং সংকটকালীন যৌথ প্রতিক্রিয়া কৌশল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দিকের দেশ হিসেবে ২০০৭ সালে বাংলাদেশ আসিয়ানের এই কূটনৈতিক চুক্তি টিএসি-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়।

বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত সাইবার অপরাধ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজবের প্রসারকে বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন ড. রহমান। এসব উদীয়মান প্রযুক্তির ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে সুনির্দিষ্ট যৌথ রূপরেখা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান তিনি। আসিয়ানের এই কূটনৈতিক প্রটোকল আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও পারস্পরিক অসংবেদনশীলতা পরিহারের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
সম্মেলনের অবসরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিলি, নেদারল্যান্ডস ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সাথে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। এসব বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, শক্তি ও জ্বালানি সরবরাহ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বৈধ অভিবাসন এবং চক্রাকার অর্থনীতিসহ (সাকুলার ইকোনমি) পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।



