বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে দেশের তিন জেলায় পৃথক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। খেলা দেখার পর পারিবারিক কলহের জেরে নোয়াখালী ও কুষ্টিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে দুই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে, পছন্দের দল আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ায় তীব্র মানসিক আঘাতে সাতক্ষীরায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এক সমর্থকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পৃথক এসব ঘটনা ঘটে।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সাথে অভিমান করে রায়হান (২৬) নামে এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার সকালে উপজেলার কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রায়হান ওই এলাকার আব্দুল বারিকের ছেলে। সেনবাগ থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়হান রোববার রাতে স্থানীয়দের সাথে বড় পর্দায় ফাইনাল খেলা উপভোগ শেষে বাড়ি ফেরেন। বাড়িতে পৌঁছানোর পর তুচ্ছ বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর ওপর অভিমান করে তিনি নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস নেন। সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার জানান, পারিবারিক কলহের জেরেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অনুরূপ এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখে সোমবার ভোররাতে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্যের জেরে সুমন হোসেন (৩২) নামে দুই সন্তানের এক জনক ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। নিহত সুমন উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। পেশায় কৃষক সুমনের পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সি দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের কট্টর সমর্থক ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
এদিকে, সাতক্ষীরায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলায় আর্জেন্টিনার পরাজয় সহ্য করতে না পেরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজুর রহমান ওরফে লালটু (৩৫) নামে এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর এলাকায় এই ট্র্যাজেডি ঘটে। নিহতের স্বজন জাকির হোসেন জানান, ভোররাতে বড় পর্দায় খেলা দেখার পর আর্জেন্টিনা হেরে গেলে মন খারাপ করে বাড়ি ফেরেন লালটু। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফুটবল উন্মাদনাকে কেন্দ্র করে একই দিনে তিনটি তাজা প্রাণ ঝরে পড়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনাই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করছে।



