― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বিএনপি কি ‘রাতের সরকার’, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে অতীতের ধারাবাহিকতায় ‘রাতের সরকার’ কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখা আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর সমালোচনা করেন। মধ্যরাতে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত রাতের অন্ধকারে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারের কার্যপ্রণালীর স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

সমাবেশে জামায়াত আমির দেশের শীর্ষ ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ডসম প্রতিষ্ঠানে এক বিতর্কিত ও বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন দুর্বল ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি মাত্র তিন মাস আগে ঋণখেলাপির দায় থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এক ব্যর্থ ও পলাতক সাবেক ডেপুটি গভর্নরকে পুনর্বাসন এবং একটি বেসরকারি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে গভীর রাতে চাপ সৃষ্টি করে পদত্যাগপত্র আদায়ের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

রাজনৈতিক অঙ্গনে জামায়াত নেতাদের প্রতি ‘গুপ্ত’ বা অন্তরালে থাকার অপবাদের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারী ও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁরা দেশের ভেতরেই ছিলেন, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে থাকার উদাহরণ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মাটিতে থেকে লড়াই করা যদি ‘গুপ্ত’ হওয়া হয়, তবে তিনি তাতে গর্বিত। একই সাথে তিনি সুদিন ও দুর্দিন উভয় সময়েই দেশের মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে, সংকটকালে দেশ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়াকে ‘বীরত্ব’ না বলে কাপুরুষতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির দাবি করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া দৃশ্যত সুষ্ঠু হলেও ভোট গণনা এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রে ব্যাপক কারচুপি ও ‘দুষ্টুমি’ করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটির জোরে বিএনপি ক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং শপথ না নিয়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণকে অপমান করেছে। এই ক্ষোভ একসময় ছাইচাপা আগুনের মতো আগ্নেয়গিরির রূপ নেবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন। এ ছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্ড প্রথার সমালোচনা করে তিনি তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে বন্টন এবং চাঁদাবাজি বন্ধের ওপর জোর দেন।