ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটির পদ্মশ্রী সম্মাননা প্রাপ্তি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বাদানুবাদ শুরু হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য তাকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হলেও কেরালা কংগ্রেস বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। তাদের দাবি, কামাকোটির এই সম্মাননা মূলত গোমূত্র নিয়ে তার তথাকথিত ‘অত্যাধুনিক গবেষণা’র ফল। গত বছর কামাকোটি গোমূত্রে ওষধি গুণাগুণ থাকার দাবি করলে ভারতজুড়ে বিজ্ঞানমনস্ক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, যা এখন রাজনৈতিক রূপ নিল।
কংগ্রেসের এই সমালোচনার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছেন ভারতের খ্যাতনামা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জোহো কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীধর ভেম্বু। তিনি কামাকোটিকে একজন দক্ষ মাইক্রোপ্রসেসর বিশেষজ্ঞ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ঔপনিবেশিক মানসিকতার কারণেই অনেকে প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ ও প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে অবজ্ঞা করেন। ভেম্বুর মতে, কামাকোটি তার দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত ও একাডেমিক অবদানের জন্যই এই সম্মানের যোগ্য, কেবল একটি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তার অর্জনকে খাটো করা অনুচিত।
বিতর্কটি কেবল বাগযুদ্ধে সীমাবদ্ধ থাকেনি, এতে উঠে এসেছে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও। কেরালা কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, গোমূত্র ও পঞ্চগব্য নিয়ে ক্যানসার গবেষণার নামে জনগণের কোটি কোটি রুপি আসলে কোথায় ব্যয় হচ্ছে। তারা মধ্যপ্রদেশের একটি প্রকল্পের উদাহরণ টেনে দেখায় যে, গবেষণার চেয়ে প্রমোদ ভ্রমণে অর্থ অপচয় হয়েছে বেশি। সব মিলিয়ে, একজন শীর্ষ প্রযুক্তিবিদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা এখন ভারতজুড়ে বিজ্ঞান বনাম বিশ্বাস এবং রাজনীতি বনাম গবেষণার এক বড় তর্কে পরিণত হয়েছে।



