আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
আফগানিস্তান ও রাশিয়ার সম্পর্ক জটিল। কারণ, এই দুই দেশের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রয়েছে। তবে সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আফগানিস্তানকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করেছে রাশিয়া।
আফগানিস্তানের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে এই স্বীকৃতি দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে তালেবান-শাসিত আফগানিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র রাশিয়া।
এখন পর্যন্ত কোনো দেশই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, উজবেকিস্তান এবং পাকিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিয়েছে, যা আংশিক স্বীকৃতির ইঙ্গিত বহন করে।
রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তানের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান দ্বিপাক্ষিক উৎপাদনশীল সহযোগিতার বিকাশে গতি আনবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রাশিয়ার এই সাহসী পদক্ষেপকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখি। ইনশাআল্লাহ, এটি অন্যদের জন্যও দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।’

দুই দেশের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস:
১৯৭৯ সালে সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানে প্রবেশ করে এবং মুজাহিদদের সঙ্গে দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত বাহিনী দেশটি ছেড়ে যায়। তবে এই যুদ্ধে ১৫ হাজার সোভিয়েত সেনা নিহত হয়েছিল।

২০০৩ সালে রাশিয়া তালেবানকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছিল, তবে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করছে মস্কো।



