― Advertisement ―

শান্তি চুক্তি নয়, দোহায় আলোচনা কেবলই জব্দ টাকা ছাড়ের: ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে জানাল ইরান

ওয়াশিংটনের সাথে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক শান্তি সংলাপে বসার পরিকল্পনা তেহরানের নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরাশক্তিটি আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক আলোচনার চেয়ে ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’র পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং সেখানে আইনিভাবে স্বীকৃত নিজেদের অর্থনৈতিক অধিকার ও আন্তর্জাতিক সুবিধাগুলো আদায়েই সর্বোচ্চ মনোযোগ দিচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’কে (IRNA) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কূটনৈতিক অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেছেন।

মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়েই গতকাল সোমবার দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সমঝোতা চুক্তির ধারাগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, “ঐতিহাসিক ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির ১০ নম্বর ধারায় ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। একই সাথে চুক্তির ১১ নম্বর ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জব্দ বা ফ্রিজড (Frozen) অবস্থায় থাকা ইরানের রাষ্ট্রীয় অর্থ অবিলম্বে অবমুক্ত করা হবে। ইরান সরকার বর্তমানে এই দুটি ধারা দ্রুত ও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়নের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।”

সাক্ষাৎকারে বাকায়েই আরও স্পষ্ট করেন যে, এই শর্তগুলো পূরণ করা ছাড়া ইরানের সামনে এই মুহূর্তে অন্য কোনো বিকল্প খোলা নেই। কারণ, মূল চুক্তির ১৩ নম্বর ধারায় আইনি শর্ত দেওয়া রয়েছে যে—চুক্তির ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর ধারা সম্পূর্ণ ও সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ার পরেই কেবল দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী শান্তি আলোচনা (Permanent Peace Talks) শুরু হতে পারবে। ফলে প্রাথমিক শর্ত পূরণ না করে মূল শান্তি চুক্তি নিয়ে বসার কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, দুই দেশের প্রতিনিধিরা কাতারে প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে গেছেন।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে ইসমাইল বাকায়েই বলেন, শান্তি চুক্তির কোনো এজেন্ডা নিয়ে নয়, বরং কাতারের ব্যাংকে ইরানের যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ফ্রিজড বা অবমুক্তির অপেক্ষায় আছে, তা ছাড় করানোর কারিগরি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতেই ইরানের প্রতিনিধিদল কাতার সফর করছে। এ প্রসঙ্গে ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল এক পৃথক বিবৃতিতে জানান, কাতারের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে এই মুহূর্তে ইরানের প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার আটকা পড়ে আছে। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনার পর সেখান থেকে প্রথম কিস্তিতে ৬০০ কোটি (৬ বিলিয়ন) ডলার অবমুক্ত করার ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন সবুজ সংকেত (Green Signal) দিয়েছে, যা তেহরানের চলমান অর্থনৈতিক সচলতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।