বরগুনা প্রতিনিধি: আবারও চালু হচ্ছে আমতলী-ঢাকা নদীপথের লঞ্চ চলাচল। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা সদরঘাট টার্মিনাল থেকে একটি লঞ্চ আমতলীর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
যাত্রী সেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এ উদ্যোগ নিয়েছে লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর লঞ্চ চলাচল শুরু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
জানাগেছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হওয়া পর থেকেই ঢাকা-আমতলী পথে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতে যাত্রী কমতে থাকে।
যাত্রীসংকট চরম আকার ধারণ করায় আমতলী-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচল অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের ২০ জুলাই লঞ্চমালিকেরা আমতলী-ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এতে দক্ষিণাঞ্চলের আমতলী, তালতলী, বরগুনা সদর, কলাপাড়া ও পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা নৌপথের যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েন।
বাধ্য হয়েই তাঁরা সড়কপথে চলাচল শুরু করেন। পরে যাত্রী সংঙ্কটে পড়ে লঞ্চগুলো। এরপর আমতলী-ঢাকা নদী পথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
তবে প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে অস্থায়ীভাবে লঞ্চ সার্ভিস চালু করা হয়। এবারও ঈদে যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবেই লঞ্চ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৬ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে এমভি সুন্দরবন-৭, এমভি ইয়াদ-৭, এমভি ইয়াদ-৩ ও এমভি শরীয়তপুর-৩ চারটি লঞ্চ চলাচল করবে বলে নিশ্চিত করেছেন লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, পরিবার নিয়ে সড়কপথে ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঈদে লঞ্চে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। তবে দীর্ঘদিন পর লঞ্চ সার্ভিস চালু হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
এমভি ইয়াদ-৩ লঞ্চের কেবিন ইনচার্জ মোঃ রাহাত তালুকদার বলেন, কবিন বুকিং শুরু হয়েছে, তবে যাত্রী সংখ্যা এখনো কম।
তিনি আরো বলেন, ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসবে ততই যাত্রী চাপ বাড়বে।
এমভি সুন্দরবন-৭ লঞ্চের সুপার ভাইজার মোঃ মাইনুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে চারটি লঞ্চ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিক পক্ষ। এ রুটে এমভি সুন্দরবন-৭, এমভি ইয়াদ-৭, এমভি ইয়াদ-৩ ও এমভি শরীয়তপুর-৩ লঞ্চ পর্যায়ক্রমে চলাচল করবে।
এমভি ইয়াদ লঞ্চের মালিক মামুন-অর- রশিদ লঞ্চে যাত্রী চলাচলের আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সেবার কথা বিবেচনা করে আমতলী-ঢাকা রুটে চারটি লঞ্চ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৬ মার্চ এমভি ইয়াদ-৭ সদরঘাট থেকে আমতলীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এছাড়া, সারা বছর দুইটি লঞ্চ চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনের অনুরোধ জানিয়ে ভাড়া কমানোর আশ্বাস দেন, যাতে রুটটি টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়।
বরগুনা বিআইডব্লিউএ সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় বলেন, লঞ্চ চালুর বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হবে।
বিএম/জ/রা



