দেশের ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম এক ধাক্কায় ব্যাপকভাবে হ্রাস করা হয়েছে। বহুল ব্যবহৃত প্রতি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এককালীন ৩৫৭ টাকা কমিয়ে সর্বমোট ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর আগে সদ্য সমাপ্ত জুন মাসে এই ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডারের বাজারমূল্য ছিল ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) এক প্রশাসনিক আদেশের মাধ্যমে নতুন এই মূল্য তালিকা ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), যা আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকেই সারাদেশে কার্যকর হতে যাচ্ছে।
বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এলপিজির কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেনের দাম ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী রয়েছে। বিশ্ববাজারের এই ইতিবাচক মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে প্রতি কেজি এলপিজির নতুন দাম ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী মাসে ছিল ১৫৭ টাকা ০৬ পয়সা। আন্তর্জাতিক বাজারের এই দরপতনের সুফল সরাসরি দেশীয় সাধারণ ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতেই বিইআরসি দ্রুত এই মূল্য সমন্বয় করেছে।
একই সাথে যানবাহনে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা অটোগ্যাসের দামেও বড় ধরনের স্বস্তি এসেছে। চলতি জুলাই মাসের জন্য প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম আগের ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সা কমিয়ে নতুন করে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন। এর ফলে গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ি চালকদের জ্বালানি খরচ অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারে ১২ কেজি ছাড়াও বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়ে থাকে, যা এই কেজিপ্রতি নির্ধারিত নতুন দরের অনুপাত অনুযায়ী আনুপাতিক হারে বিক্রি হবে।
তবে বেসরকারি খাতে দামের এই বিশাল পরিবর্তন আসলেও সরকারি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির সরবরাহ করা সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৮২৫ টাকায় সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বিইআরসি প্রতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক সৌদি আরামকোর (Saudi Aramco) চুক্তি মূল্য (CP) বিবেচনা করে দেশীয় বাজারে এই এলপিজির দাম পুনঃনির্ধারণ করে থাকে। বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানির এই দাম যৌক্তিক পর্যায়ে থাকবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদরা।



