দেশের প্রসূতি, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বিস্তৃত করতে বাংলাদেশকে ২৪ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের চিকিৎসাসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢাকার মার্কিন নিয়োগকৃত রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) ঢাকাস্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূরদর্শন ও সংবাদ কার্যালয়ের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সহায়তার অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা হাসপাতালে এক বিশেষ সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের কাছে প্রসূতি ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ মডেল তুলে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিশাল সহায়তার মধ্যে রয়েছে নবজাতকের প্রয়োজনীয় উষ্ণতা নিশ্চিতকরণ ডিভাইস (নিউবর্ন ওয়ার্মার), কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র, তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের পুষ্টিকর থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতা রক্ষার প্রয়োজনীয় কোল্ড-চেইন সামগ্রী। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত সহযোগী সংস্থা এফএইচআই ৩৬০, ঝপাইগো, জেএসআই এবং ইউনিসেফের মাধ্যমে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকাগুলোতে এসব সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগকে ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’-র অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে মার্কিন মিশন। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য বাস্তবমুখী অংশীদারিত্বের মধ্য দিয়ে সহযোগী দেশের স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিকাঠামো শক্তিশালী করা এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে মার্কিন প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহার বাড়ানো।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবার সার্বজনীন সুযোগ তৈরি করতে তারা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে যাবে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিই মূলত এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপক্ষীয় এই সহযোগিতা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক কূটনৈতিক সুসম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। এটি চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রান্তিক মানুষের সরাসরি প্রবেশাধিকার বাড়াবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।



