ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সুবিদপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন হট্টগোল ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে তালতলা বাজারে বিএনপির নির্বাচনী উঠান বৈঠক চলাকালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মূলত স্থানীয় যুবলীগ নেতা দোলন মুন্সির নেতৃত্বে একদল সমর্থক বিএনপিতে যোগ দিতে চাইলে বাদ সাধেন ইউনিয়ন ছাত্রদলের একাংশ। দোলনের বিরুদ্ধে অতীতে বিএনপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ থাকায় তাঁর যোগদান মেনে নিতে পারেননি মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। এই বিরোধের জেরে এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান খান হেলালসহ শীর্ষ নেতাদের দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে তালাবদ্ধ করে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন দোলন মুন্সির ভাই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল ইসলাম সুমন ও সাবেক ছাত্রদল নেতা অহিদুল ইসলাম অপুর নেতৃত্বে এক পক্ষ সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ দোলন মুন্সিকে দলে ভেড়াতে মরিয়া থাকলেও সাধারণ কর্মীদের দাবি ছিল, যারা এক সময় হামলাকারী ছিল, তাদের কোনোভাবেই ঠাঁই দেওয়া যাবে না। দীর্ঘ সময় উত্তেজনার পর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহীদ খান ওই যুবলীগ নেতার পরিবারকে স্থানীয় রাজনীতিতে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করলে কর্মীরা শান্ত হয় এবং তালা খুলে নেতাদের মুক্ত করে।
পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ছাত্রদল নেতাদের দাবি, যুবলীগ ক্যাডাররা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করতে আসলে তাঁরা তা প্রতিরোধ করেছেন। তবে এই ঘটনায় বড় ধরনের কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি। এই ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের কর্মীরা বিতর্কিত কাউকেও দলে নিতে কেন্দ্রীয় বা উপজেলা নেতাদের সিদ্ধান্তের ওপর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন। ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।



