― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে জামায়াত

দেশের সংবাদপত্রের প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ সাধন, বাক-স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদকর্মীদের পেশাগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিরলসভাবে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন, ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ যদি ব্যালটের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট বা সুযোগ দেয়, তবে গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে গড়ে তুলতে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল ১৯৭৫ সালের ১৬ই জুনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে একে বাংলাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সরকার একদলীয় শাসন তথা বাকশাল কায়েম করে দেশের গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ওই বছরের ১৬ই জুন মাত্র চারটি সংবাদপত্র (দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, ইত্তেফাক ও বাংলাদেশ অবজারভার) সরকারি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাকি সব সংবাদপত্রের প্রকাশনা আইন করে বাতিল করা হয়েছিল। এর ফলে রাতারাতি দেশের হাজার হাজার জ্যেষ্ঠ ও কনিষ্ঠ সংবাদকর্মী বেকার হয়ে চরম অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনও গণমাধ্যমের ওপর কাঠামোগত দমন-নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছিল। তাদের ১৫ বছরের শাসনামলে দৈনিক আমার দেশ, চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টেলিভিশন, সিএসবি টিভি ও ইসলামিক টিভির মতো মূলধারার গণমাধ্যম এবং অসংখ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলস্বরূপ আবারও হাজার হাজার সংবাদকর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েন। এছাড়া সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতে ২০১৮ সালে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ এবং পরবর্তীতে ২০২৩ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ নামক কালাকানুন তৈরি করে মুক্তচিন্তার মানুষকে বিনাবিচারে জেলে আটকে রাখা হয়েছিল।

বিবৃতিতে দেশের গণমাধ্যম খাতের সাম্প্রতিক ইতিবাচক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ও নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করেছে। একই সাথে অন্যায্যভাবে বন্ধ করে দেওয়া দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি, চ্যানেল ওয়ান, সিএসবি ও ইসলামিক টিভি পুনরায় চালুর আইনি অনুমতি প্রদান করেছে, যা দেশের মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় মাইলফলক। পরিশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন দেশের আইন ও গণতন্ত্র রক্ষায় সম্পূর্ণ গঠনমূলক, নিরপেক্ষ এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন।