ঝালকাঠিতে বেপরোয়া গতির দূরপাল্লার বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মো. সোলায়মান রাফির (১২) নির্মম ও অকাল মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গন। ঘাতক বাস চালককে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন, ২০২৬) সকালে রাজপথে নেমে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাফির সহপাঠী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এই বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আজকের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিহত রাফির সহপাঠী তথা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রভাতী ‘ক’ শাখার অবোধ শিশুরাসহ বিভিন্ন শ্রেণির শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ঘাতক চালকের ফাঁসি চাই’ এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও রাফির ছবি প্রদর্শন করে দীর্ঘক্ষণ স্লোগান দেয়। এ সময় সহপাঠীকে হারানোর বেদনায় অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়লে দুর্ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় পথচারীরাও শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা গণমাধ্যমকে জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের অত্যন্ত মেধাবী ও প্রিয় বন্ধু সোলায়মান রাফি অকালে প্রাণ হারিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ বা দৈব দুর্ঘটনা নয়, বরং লাইসেন্সবিহীন বা অদক্ষ চালকের চরম বেপরোয়া গাড়ি চালনা ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের সরাসরি ফল; যা প্রকারান্তরে একটি হত্যাকাণ্ড। তারা অনতিবিলম্বে এই নির্মম ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘাতক বাস চালককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানায়। আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়, সেজন্য ঝালকাঠির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা।
ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘাতক বাসটি জব্দ করেছে, তবে দুর্ঘটনার পর চালক ও তার সহকারী কৌশলে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় ঝালকাঠি মডেল থানায় একটি নিয়মিত সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ ও বাস মালিক সমিতির সহায়তায় পলাতক চালকের সুনির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেফতারে ডিবির একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে স্পিডব্রেকার নির্মাণ এবং ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি আলোচনা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



