― Advertisement ―

সংকটে থাকা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন বিষিয়ে উঠছে

আগে থেকেই সংকটে থাকা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এখন ক্রমেই বিষিয়ে উঠছে। দুই প্রান্তের সাম্প্রতিক নানা ঘটনা প্রবাহ পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চাপের মুখে পড়া ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। দুই দেশই মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

গত শনিবার (২০ ডিসেম্বর) রাতে নজিরবিহীনভাবে নিরাপদ দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ হাউজের গেটে গিয়ে বিক্ষোভ দেখায় একদল উগ্রপন্থি।

তারা চাণক্যপুরির একের পর এক নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে একেবারে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং হাইকমিশনারের বাসভবন লক্ষ্য করে বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দিতে থাকে।

সেখানে উপস্থিত থাকা ২০ থেকে ২৫ জন লোক হাইকমিশনারকে উদ্দেশ্য করে উচ্চস্বরে গালমন্দ এবং নানা হুমকিও দেয়। এ ঘটনার সময় বাসভবনে থাকা বাংলাদেশ দূত এবং তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন।

ওই ঘটনায় দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের বরাতে প্রেসনোটও ইস্যু করা হয়েছে। যেখানে এ সংক্রান্ত বাংলাদেশি মিডিয়ার রিপোর্টকে অতিরঞ্জন বলে দাবি করে ভারত। বাংলাদেশ দূতকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি দিল্লি অস্বীকার করেছে।

অখণ্ড হিন্দু রাষ্ট্রসেনার ব্যানারে শনিবার ওই উগ্রপন্থিদের বাংলাদেশ হাউজের মূল ফটকে অবস্থান নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

ভারতের দাবি দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রত্যাখ্যান করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রশ্ন রাখেন দিল্লির সুরক্ষিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতের বাসভবন পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করতে পারলো কীভাবে?

এটাকে গুরুতর নিরাপত্তা ঘাটতি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন- হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা শুধু বাংলাদেশে একজন হিন্দু নাগরিক হত্যার ঘটনায় স্লোগান দেয়নি বরং অন্যান্য বক্তব্যও দিয়েছে।

বাংলাদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সঠিক দাবি করে উপদেষ্টা বলেন ২৫ বা ৩০ জনের একটা হিন্দু চরমপন্থি সংগঠনের একটা দল এতদূর পর্যন্ত আসতে পারবে কেন একটা স্যানিটাইজড এলাকার মধ্যে। তার মানে তাদের আসতে দেয়া হয়েছে।

এদিকে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত গতকাল চট্টগ্রাম নগরীর ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভিএসি) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়।

বন্দরনগরীতে অবস্থিত ভারতের সহকারী হাইকমিশনের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহীর আইভিএসি এক দিন করে আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ওই তিন শহরে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এর আগে, ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত বাংলাদেশের সাথে ভিসা প্রদান এবং বাণিজ্য ব্যাপকভাবে সীমিত করে। অন্যদিকে, ঢাকা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

বাংলাদেশ বারবার ভারতকে হাসিনার উস্কানিমূলক মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বাংলাদেশে বলেছে যে, এই ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। তবে ভারতকে সে বিষয়ে দৃশ্যমান তেমন কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে দুইবার অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ।

সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, ‘দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হাসিনার উপর নির্ভর করছে।’

সম্প্রতি ভারতের পক্ষথেকে বলা হয়েছে, তারা বাংলাদেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানাচ্ছে।

এই বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ভারতের কাছ থেকে কোনও পরামর্শের প্রয়োজন নেই, কারণ ভারত আওয়ামী লীগের শাসনামলে কোনও নির্বাচনের বিষয়ে কথা বলেনি।

প্রসঙ্গত, জুলাই ঐক্যের ব্যানারে ছাত্র-জনতা যখন হাসিনা এবং তার সহযোগীদের ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ভারতীয় হাই কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে এগুচ্ছিলো তখন হাই কমিশনের বহু দূর আগে রামপুরায় পুলিশ মিছিলটিকে আটকে দেয়।