বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে দেওয়া তাঁর সেই ঐতিহাসিক ও কালজয়ী বেতার ভাষণের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন। আজ শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) ভারতীয় হাইকমিশন কর্তৃক অবমুক্ত করা এক আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের সেই অবরুদ্ধ ও সংকটময় দিনগুলোতে বেতারে মেজর জিয়ার বজ্রকণ্ঠের বিখ্যাত ভাষণ মুক্তিকামী সাধারণ মানুষকে চরমভাবে উদ্দীপ্ত করেছিল। এই ঐতিহাসিক বার্তাটি তৎকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক নিপীড়ন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে বীর বাঙালিকে সশস্ত্র প্রতিরোধের পথে ধাবিত হতে অনন্য অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
হাইকমশিনের বিশেষ এই কূটনৈতিক বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আজ বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণ যখন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় জাতির অন্যতম বীর সেনানী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে সমবেত হয়েছে, তখন ভারত সরকার ও তার জনগণ সেই ঐতিহাসিক ক্ষণটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পুনর্মূল্যায়ন করছে। ১৯৭১ সালের ২৬ ও ২৭ মার্চে তাঁর কণ্ঠে ধ্বনিত মুক্তি সংগ্রামের সেই ঘোষণা কেবল একটি বার্তা ছিল না; বরং তা ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র ও জাতীয় মুক্তির দিকে বীর দর্পে এগিয়ে যাওয়ার অবিনাশী আহ্বান। ভারতের পক্ষ থেকে তৎকালীন মেজর জিয়ার এই অনন্য ও সাহসী নেতৃত্বকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের একটি টার্নিং পয়েন্ট এবং ঐতিহাসিক অনুঘটক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতির সমাপনী অংশে দুই প্রতিবেশীর অবিচ্ছেদ্য বন্ধন ও আত্মত্যাগের স্মৃতি রোমন্থন করে ভারতীয় হাইকমিশন উল্লেখ করেছে, “আজও, একাত্তরের গৌরবোজ্জ্বল দিনগুলোর মতোই, ভারত বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।” একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে দুই দেশের বীর সন্তানদের অভিন্ন রক্তের বিনিময়ে গড়ে ওঠা আত্মত্যাগের গৌরবগাঁথা এবং বন্ধুত্বের যে অটুট ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, তা আজও দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল চালিকাশক্তি। একই সাথে বর্তমান সময়ে উভয় দেশের জনগণের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সার্বিক সমৃদ্ধির অভিন্ন যাত্রায় ভারত বরাবরের মতোই বাংলাদেশের পাশে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে অবস্থান করবে বলে বিবৃতিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে ভারতীয় হাইকমিশনের এই বিশেষ ও ইতিবাচক বিবৃতিটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং সুদূরপ্রসারী বার্তা বহন করে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কর্তৃক বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পবিত্র ঈদুল আজহার উষ্ণ ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানোর পর, দিল্লির এই ধারাবাহিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ দুই দেশের ঐতিহাসিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন এবং অত্যন্ত শক্তিশালী মাত্রায় উন্নীত করল। ১৯৭১ সালের অভিন্ন আত্মত্যাগের এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীকে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।



