পাঁচ বছর আগে ঢাকার মহাখালী এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুন করার পর লাশ ৬ টুকরা করার দায়ে প্রথম স্ত্রী ফাতেমা বেগম ওরফে শিল্পীকে প্রাণদণ্ড (মৃত্যুদণ্ড) দিয়েছে আদালত। একই সাথে লাশ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাঁকে অতিরিক্ত সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) ঢাকার ষোড়শ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নাজমুন নাহার নিপু জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খন্দকার শফি নেওয়াজ নাসির এই দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ৩০ মে রাতে মহাখালীর আমতলী এলাকায়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পারিবারিক সহিংসতা, অর্থ বণ্টন ও স্বামীর একাধিক বিয়েকে কেন্দ্র করে অটোরিকশা চালক স্বামী ময়না মিয়া ওরফে শাকিলের সঙ্গে ফাতেমার তীব্র মনোমালিন্য চলছিল। একপর্যায়ে ফাতেমা স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নিস্তেজ করার পর গলা কেটে হত্যা করেন এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে করাত দিয়ে লাশ ৬ টুকরা করেন। এরপর তিনি খণ্ডিত দেহাংশগুলো নীল ড্রাম ও ট্রাভেল ব্যাগে ভরে রিকশাযোগে মহাখালীর আমতলী, বাস টার্মিনালের এনা কাউন্টার এবং গুলশান লেক এলাকায় আলাদাভাবে ফেলে দিয়ে আসেন।
ঘটনার পরপরই রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে মাথাবিহীন দেহ এবং খণ্ডিত হাত-পা উদ্ধার করা হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মাঠে নেমে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর ফাতেমা নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম আদালতে ফাতেমার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন এবং ২০২৩ সালের ১২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার বিচার শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করে। যদিও আত্মপক্ষ শুনানিতে আসামি ফাতেমা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তবে বিজ্ঞ আদালত ডিবির নিখুঁত তদন্ত, ফরেনসিক প্রমাণ এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত পাওয়ায় এই সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাহিমুল করিম আকন্দ জানান, রায় ঘোষণার সময় ফাতেমাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয় এবং রায় শেষে সাজা পরোয়ানা জারির মাধ্যমে তাঁকে পুনরায় কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



