― Advertisement ―

পারভীন হত্যা: খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল হাই কোর্টে

চাঁদপুরের পারভীন হত্যা মামলায় আলোচিত খুনি রসু খাঁর মৃতুদণ্ড বহাল রেখেছে হাই কোর্ট।মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মো. জিয়াউল করিম ও বিচারপতি কে এম ইমরুল কায়েশের...

মনপুরায় জলাবদ্ধতায় থমকে গেছে জনজীবন: কর্মহীন শ্রমজীবীদের ঘরে জ্বলছে না উনুন, প্লাবিত বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল

বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন ভোলার উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় টানা তিন দিনের রেকর্ড ভাঙা মুষলধারে বর্ষণে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার ৫টি প্রত্যন্ত ইউনিয়নের সিংহভাগ নিম্নাঞ্চল বর্তমানে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে জলমগ্ন। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে গ্রামীণ সড়ক, শত শত একর ফসলের মাঠ এবং বিস্তীর্ণ লোকালয় প্লাবিত হওয়ায় চরম মানবিক বিপর্যয়ে পড়েছেন দ্বীপের লক্ষাধিক বাসিন্দা ও খেটে খাওয়া দিনমজুরেরা।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) সকাল থেকে উপকূলীয় জেলা ভোলাজুড়ে তীব্র বজ্রঝড়সহ ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত তিন দিন ধরে বিরতিহীনভাবে চলমান এই অতিবর্ষণ মনপুরার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ ও স্থবির করে দিয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল নিম্ন আয়ের প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে চরম খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনপুরা মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন কলাতলী ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর এবং মূল কলাতলী চরের নিম্নাঞ্চলগুলোতে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট উচ্চতার স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। জোয়ারের পানি এবং বৃষ্টির পানির এই যৌথ প্লাবনে দ্বীপের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাজার-ঘাট ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় উপকূলীয় লজিস্টিকস চেইন ভেঙে পড়েছে। কাজের সুযোগ না থাকায় বহু দিনমজুরের ঘরে দুবেলা উনুন জ্বলছে না।

জলমগ্নতার এই ভয়াবহ চিত্র মূল ভূখণ্ডের ৪টি ইউনিয়নেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর ও চর সাকুচিয়া এবং হাজিরহাট ইউনিয়নের দাসেরহাট, চরযতিনের নিম্নাঞ্চল ও সোনারচরের দুই প্রান্ত সম্পূর্ণ পানির নিচে। সমান্তরালভাবে মনপুরা ইউনিয়নের আন্দিরপাড় ও কাউয়ারটেক এবং উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের চরগোয়ালিয়াসহ বিভিন্ন প্রধান অর্থনৈতিক হাবগুলো এখন জলবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

দুর্যোগকবলিত হাজিরহাট ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সফিজল, হেলাল ও রাকিবসহ একাধিক ভুক্তভোগী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ধরনের পানি নিষ্কাশন বা ড্রেজিং ব্যবস্থার বিকল্প না রেখেই মনপুরার চারপাশে স্থায়ী বেড়িবাঁধের মেগা-প্রকল্পের কাজ চলছে। ফলে বৃষ্টির পানি বাইরে যাওয়ার সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। এর ওপর চরের অধিকাংশ পুরনো স্লুইস গেট দীর্ঘকাল ধরে অকেজো ও পলি জমে অবরুদ্ধ হয়ে থাকায় খালগুলো দিয়ে মেঘনায় পানি নামতে পারছে না।

আমলাতান্ত্রিক অবহেলা ও অপরিকল্পিত প্রকৌশলগত ত্রুটিকে এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। জোয়ারের চাপ ও অতিবৃষ্টির এই যুগপৎ প্রভাবে উপকূলের রোপা আমনের বীজতলা ও রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় প্লাবিত এলাকার মানুষজন গবাদি পশু ও পরিবার নিয়ে খাটের ওপর অথবা নৌকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এই গুরুতর পরিবেশগত সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আসাফউদ্দৌলা গণমাধ্যমকে জানান, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপজনিত টানা বর্ষণের ফলেই মূলত এই অনাকাঙ্ক্ষিত জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপকূলের অকেজো স্লুইস গেটগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারসহ খালের মুখে আটকে থাকা পলি অপসারণ করে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য পাউবোর বিশেষ কারিগরি দল ইতিমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে।