ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ করায় সাতুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজিবের ওপর একদল সশস্ত্র মাদক ব্যবসায়ীর অতর্কিত ও নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় ছাত্রদল নেতা সজিবসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উপজেলার রাজনৈতিক ও স্থানীয় মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই, ২০২৬) প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত সোমবার রাতে রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া বাজার এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় মাথায় ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মক জখম হন সাতুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজিব। এছাড়া ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সজিবের বড় ভাই বাবুল এবং কাইফ নামের স্থানীয় এক তরুণ।
আহত পরিবার ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লেবুবুনিয়া বাজার এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চিহ্নিত অপরাধী চক্র অবৈধ মাদক ব্যবসা ও মাদকসেবীদের আখড়া পরিচালনা করে আসছিল। এলাকার সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সাথে নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি সজিব এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। এই প্রতিবাদের জেরে সোমবার রাতে অভিযুক্ত মাদক কারবারিদের সাথে সজিব ও স্থানীয় যুবকদের তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মাদক চক্রের সদস্যরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে প্রায় ২০ জনের একটি সুসংগঠিত দল গঠন করে সজিবের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। রামদা ও ছেনার কোপে গুরুতর আহত সজিবকে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বাকি দুই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তবে রাজনৈতিক ও মাদক সংক্রান্ত এই হামলার তীব্র অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মূল অভিযুক্ত আফজাল হোসেন। তিনি পাল্টা দাবি করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক ব্যবসার যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মূলত ডাবের ব্যবসা নিয়ে স্থানীয় সোহেল আকনের সাথে সজিবের বড় ভাইয়ের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরেই এই মারামারির সূত্রপাত ঘটেছে।
অভিযুক্ত আফজালের আরও অভিযোগ, সজিবের পক্ষের লোকজনই প্রথমে লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং সেই হামলায় তাদের পক্ষের একজনের পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এই সংঘর্ষের বিষয়ে রাজাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কামাল জানান, লেবুবুনিয়া বাজারের মারামারির ঘটনাটি পুলিশ এখন পর্যন্ত মৌখিকভাবে শুনেছে। ঘটনাস্থলে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ বা এজাহার পাওয়া গেলেই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



