― Advertisement ―

ভেস্তে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি সমঝোতা? মার্কিন-ইরান সংঘাতের মাঝে পুড়ছে বাহরাইন

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধাবসান ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ‘প্রকাশ্য লঙ্ঘন’ করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি অভিযুক্ত করেছে ইরান। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সর্বশেষ মার্কিন বিমান হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তেহরান এই গুরুতর কূটনৈতিক অভিযোগটি উত্থাপন করে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির (AFP) একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা ও সার্বভৌম ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নৃশংস সামরিক হামলাগুলো যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারকের একটি প্রকাশ্য ও চরম লঙ্ঘন।

অন্য দিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এই সামরিক পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক এবং পাল্টা জবাব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমায় যাতায়াতকারী একটি বেসামরিক পণ্যবাহী জাহাজে ইরানি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাব দিতেই তারা এই অ্যাকশন নিয়েছে। মার্কিন বাহিনী শুক্রবার (২৬ জুন, ২০২৬) ইরানের মূল ভূখণ্ডের ভেতরে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং কয়েকটি উপকূলীয় রাডার অবস্থানকে নিখুঁত নিশানা করে এই বিমান হামলা পরিচালনা করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সমান্তরালে, মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইনের ভূখণ্ডে ইরানের পক্ষ থেকে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানোর একটি নতুন ও বিপজ্জনক ফ্রন্ট উন্মোচিত হয়েছে। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আজ শনিবার ভোরের দিকে চালানো এই ইরানি ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে। মানামা এই ঘটনাকে তাদের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের একটি ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক নথিতে বর্ণনা করেছে। বাহরাইন সরকারের মতে, আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর এমন আগ্রাসী আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি নস্যাৎ করবে।

বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরান থেকে উড়ে আসা বেশ কয়েকটি সামরিক ড্রোন সরাসরি তাদের অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে আঘাত হানে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে হামলার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষ্যবস্তুর প্রকৃত ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বাহরাইন প্রশাসন। এই বর্বরোচিত ড্রোন হামলা সরাসরি সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের জীবনকে চরম বিপন্নতার মুখে ঠেলে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের যে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা চলছিল, তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে বলে বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।