― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অশনি সংকেত

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনের ব্যবধানে দেশ দুটির হাইকমিশনারকে তলবের ঘটনা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন করে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির আবহ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এরপর ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যাচেষ্টার পর সন্দেভাজন ব্যাক্তির ভারতে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনীতিকসহ বিভিন্নজনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পর বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করে।

বাংলাদেশের অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, হাদির ওপর হামলার নেপথ্যে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-চক্রের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে ভারতের ইন্ধন থাকতে পারে। কারণ, শরিফ ওসমান হাদি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ভারতের বিভিন্ন আগ্রাসন নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দাবি আওয়ামী ও ভারত বিরোধীদের।

গতকাল বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখে জুলাই ঐক্যের মিছিল কর্মসূচি এবং ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ সম্পর্কের তিক্ততায় নতুন মাত্রা দিয়েছে। যা স্বীকার করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

বাংলাদেশে ‘ক্রমাবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ নিয়ে নয়াদিল্লির ‘গভীর উদ্বেগ’ জানাতে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে গতকাল বুধবার দুপুরে তলব করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর ঘণ্টা দুয়েক আগে ঢাকায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের (আইভেক) কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে দেশটির হাইকমিশন।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের গণমাধ্যমগুলো যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে বলা হচ্ছে, দিল্লিতে গতকাল আলোচনার মূল ইস্যু ছিল বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির উদ্বেগ।

এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবকে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানান, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ভারতীয় মিশনগুলো এবং ভারতীয় কূটনীতিকদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ এটা অব্যাহত রাখবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে বিশেষ করে ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সেই সম্পর্কে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। তফসিল ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনের বিপক্ষে বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে।

অপরদিকে তফসিল ঘোষণার পরদিন ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়। তাঁকে হত্যার চেষ্টাকারীরা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার খবরে ফুঁসে ওঠে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ। যা পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করেছে।

গতকাল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রকারীদের ভারত আশ্রয় দিচ্ছে।

এ সময় তিনি ভারত সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারকে বিশ্বাস করে না, তাদের আশ্রয় দিলে আমরাও বাংলাদেশে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দিয়ে সেভেন সিস্টার্স (উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্য) আলাদা করে দেব।’

হাসনাতের ওই বক্তব্যের পর ভারতের আসাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারত থেকে আলাদা করার এবং বাংলাদেশের অংশ করার ব্যাপারে গত বছর থেকে বাংলাদেশে বারবার আলোচনা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ভারত খুব বড় একটি দেশ, পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশ এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। বাংলাদেশ কীভাবে এমনটা ভাবতে পারে?

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষজনের মন-মানসিকতা ভালো না। তাদের খুব বেশি সহযোগিতা করা উচিত নয় আমাদের। আমাদের উচিত তাদের একটা শিক্ষা দেওয়া যে তারা যদি ভারতের সঙ্গে এমন ব্যবহার করে, তাহলে আমরা চুপ থাকব না।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই একটা গুড টু ওয়ার্কিং রিলেশন চাই বলে আসছি। আমরা চাইলেই সেটা হবে এমন তো কোনো কথা নেই! দুই পক্ষ থেকেই তো সম্পর্কটাকে এগোনোর জন্য চেষ্টা করতে হবে। আমার মনে হয় আমরা দুই পক্ষ মিলে হয়তো ততটা এগোতে পারিনি। যে কারণে টানাপোড়েন রয়ে গেছে।’

তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘ভারতের পক্ষথেকে সর্বশেষ যে বক্তব্য এসেছে, তাতে আমাদের নসিহত করা হয়েছে। সেটার কোনো প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, এটা নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না।’

বিজয় দিবসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তায় বাংলাদেশের নাম উল্লেখ না থাকার বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, যারা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানকে অস্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধকে ‘ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ’ হিসেবে দেখাতে চায়, তাদের সামরিক ইতিহাস ও বিজ্ঞান বিষয়ে ‘কোনো জ্ঞান নেই’।