স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের চূড়ান্ত উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। সাধারণ পরিষদ যাতে এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধন্ত গ্রহণ করে, সে জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সুপারিশ অনুমোদন করা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের সাম্প্রতিক এক অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত সম্মতিক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে খসড়া প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। আন্তর্জাতিক এ ফোরামে তিনি দুই রাষ্ট্রের জন্য অতিরিক্ত তিন বছর কেন অত্যাবশ্যকীয়, তার সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন। সার্বিক টেকসই উন্নয়ন অক্ষুণ্ণ রেখে মসৃণ উত্তরণের জন্য এই বাড়তি সময়সীমা নির্ধারণ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি)-এর সাম্প্রতিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে ইকোসক এ সুপারিশ প্রস্তুত করেছে। আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ পরিষদের পক্ষ থেকে এই আবেদন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করাই যুক্তিসঙ্গত। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে যাতে সাধারণ পরিষদ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য ইকোসকের প্রস্তাবটিতে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী টেকসই উত্তরণের প্রতি বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ পরিষদ থেকে এই তিন বছরের স্থগিতাদেশ চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার ও কাঠামোগত সক্ষমতা অর্জনে পূর্ণ উদ্যমে কাজ করবে, যাতে নির্দিষ্ট সময় শেষে চূড়ান্ত উত্তরণ আরও সুসংহত এবং মসৃণ হয়।



