মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ লাইনে চরম অস্থিরতার জের ধরে দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। রোববার (৩১ মে, ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি একলাফে ৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও গণপরিবহন খাতের ওপর সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দাম পূর্বের লিটারপ্রতি ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। রাত ১২টা (১ জুন, ২০২৬) থেকেই এই নতুন মূল্য তালিকা দেশব্যাপী কার্যকর হবে।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার কেরোসিনের দাম ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে প্রগতিশীল যাতায়াত ও ব্যক্তিগত যানবাহনের জ্বালানি পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩五年 ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং প্রিমিয়াম কোয়ালিটির অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত এপ্রিলের মাঝামাঝি বিশ্ববাজারের সাথে একদফা সমন্বয়ের পর মে মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও, জুনের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি দেশের ইতিহাসে পেট্রল ও অকটেনের দামকে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দিল।
বাংলাদেশ সরকার ২০২৪ সালের মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সংগতি রেখে ‘স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি’ (Automatic Pricing Formula) চালু করে। এই নিয়ম অনুযায়ী, আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের সামগ্রিক খরচ, ঋণপত্র (LC) খোলার ব্যয় এবং ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক সংঘাতের পর ফিলিং স্টেশনগুলোতে যে তীব্র আতঙ্ক ও দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছিল, তা এপ্রিলের মূল্যবৃদ্ধির পর কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবে জুন মাসের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি মধ্যবিত্তের যাতায়াত খরচ এবং অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বর্তমানে বাংলাদেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল এবং ভারী শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের আইনি এক্তিয়ার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) হাতে ন্যস্ত। অন্যদিকে, বিশেষ নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। ২০২২ সালের আগস্টে ইউক্রেন যুদ্ধের সময় দেশের ইতিহাসে একলাফে সর্বোচ্চ ৪২.৫% দাম বাড়ানোর পর থেকে জ্বালানি খাতের এই ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে, যা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কঠোর বাজার নজরদারি বজায় রাখতে হবে।



