মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবার বাড়ি সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলায়। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন, ২০২৬) ভোররাতে কাতারের আল শাহানিয়া এলাকার একটি মহাসড়কে এই অভূতপূর্ব দুর্ঘটনাটি ঘটে। কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও নিহতদের পারিবারিক সূত্র গণমাধ্যমকে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। জীবিকার তাগিদে মরুভূমির দেশে পাড়ি জমানো এই পাঁচ পরোপকারী কর্মজীবীর আকস্মিক ও গণ-মৃত্যুর খবরে কানাইঘাটের সংশ্লিষ্ট আদিগ্রামগুলোতে এখন স্তব্ধতা ও শোকের মাতম নেমে এসেছে।
নিহত প্রবাসীরা হলেন—সিলেট জেলার কানাইঘাট উপজেলার গাছবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন, জিবাল উদ্দিন, মস্তাক আহমদ, জুবায়ের আহমদ ও কাদের আহমদ। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রোববার ভোরে একটি পিকআপ ভ্যানে করে ওই প্রবাসীরা কাতারের আল শাহানিয়া এলাকায় নিজেদের নির্ধারিত কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মহাসড়কে পিকআপ ভ্যানটি আকস্মিকভাবে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্র গতিতে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বাংলাদেশি এবং তাঁদের সাথে থাকা একজন ভারতীয় নাগরিকসহ মোট ছয়জন আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল এবং স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান। তাঁরা সেখানে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দূতাবাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিদের আইনি প্রক্রিয়া ও দাপ্তরিক কাগজপত্র সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহগুলো বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পাঠানোর অফিশিয়াল কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। পিকআপ ভ্যানটি ঠিক কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে কাতারের ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে।
এদিকে, কাতারে অবস্থানরত প্রবাসীদের সর্ববৃহৎ সামাজিক সংগঠন ‘জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কাতার’-এর সাধারণ সম্পাদক আহমেদ মালেক জানিয়েছেন, তাঁরা কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উইংয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রক্ষা করছেন। মরদেহের সুরতহাল ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে কাতার প্রশাসনের বিশেষ ফ্লাইটে নিহত পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য সর্বোচ্চ কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আকস্মিক এই ট্র্যাজেডিতে কানাইঘাটের বাতাস এখন স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে।



