মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আগুন এবার উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ল। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদ ও আবুধাবির আকাশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। সৌদি প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, তাদের রাজধানী লক্ষ্য করে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাঝআকাশে ধ্বংস করা হয়েছে এবং অন্যটি লোকালয়হীন প্রান্তরে আছড়ে পড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা এসব হামলা সফলভাবে রুখে দিয়েছে তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে আবুধাবিতে প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ভারতীয় নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এই অঞ্চলটি বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত থাকলেও চলমান যুদ্ধ এখন সেই শান্তি বিঘ্নিত করছে।
এদিকে বাহরাইনেও বেজে উঠেছে বিপৎসংকেত। সাইরেনের শব্দে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সামাজিক মাধ্যমে এক জরুরি বার্তায় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার এবং নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বর্তমানে পুরো উপসাগরীয় দেশগুলো এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পাল্টাজবাব হিসেবে তেহরান এখন মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং তেল উৎপাদনকারী কেন্দ্রগুলো এখন হামলার সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



