দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড তাপ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও শক্তিশালী বাতাসের কারণে ফ্রান্স, স্পেন ও গ্রিসের বিভিন্ন এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। এরই মধ্যে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে দাবানল মোকাবিলায় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুলাই) দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি বিশাল দাবানল নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আগুনে আক্রান্ত এলাকার আয়তন প্যারিস শহরের প্রায় চার গুণ বলে জানা গেছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সে ২ হাজার ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী এবং ২০টিরও বেশি উড়োজাহাজ ও অন্যান্য আকাশযান মোতায়েন রয়েছে। আগুন মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও ইউরোপের অংশীদার দেশগুলোর দমকলকর্মীরাও সহায়তা করছেন।
গ্রিসে ৩ দমকলকর্মীর মৃত্যু
ক্রিট দ্বীপে দাবানল মোকাবিলার সময় তিন দমকলকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ ইউরোপে চলমান দাবানল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
আটলান্টিক উপকূল থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে দাবানলের কারণে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রচণ্ড তাপমাত্রা, শুষ্ক আবহাওয়া ও ঝোড়ো বাতাস আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ফ্রান্স ও স্পেনে ব্যাপক সরিয়ে নেওয়া
দাবানলের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফ্রান্স ও স্পেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে তাদের বাড়ি ও পর্যটনকেন্দ্র থেকে সরে যেতে হয়েছিল।
ফ্রান্সে বড় ধরনের আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্ধার ও দমকল বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ ইউরোপে চলমান এই দাবানল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমশ বাড়তে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।



