ইরান-আমেরিকা সামরিক সংঘাতের প্রথম দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে সংঘটিত প্রলয়ংকরী ও প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় কার ছিল, তা হয়তো কখনোই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে না বলে বুধবার (২৪ জুন, ২০২৬) এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার প্রথম ধাক্কায় মিনাবের ‘শাজারেহ তায়িবা’ স্কুলে ১৭৫ জনেরও বেশি শিশুশিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে এই হামলার জন্য মার্কিন বাহিনীকে দায়ী করা হলেও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প প্রকারান্তরে পেন্টাগনের সেই প্রাথমিক অনুসন্ধানকে এড়িয়ে যান।
বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’ (Reuters) গত মার্চ মাসে এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্ত অনুযায়ী দক্ষিণ ইরানের মিনাব স্কুলে আঘাত হানা ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রেরই ছিল। পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক চাপের মুখে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগন এ নিয়ে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এখন পর্যন্ত সেই প্রাতিষ্ঠানিক অনুসন্ধানের চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার বা প্রকাশ করেনি। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে চারদিকে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়ন ও উগ্র যুদ্ধাবস্থার কারণে আসলে কার নিখুঁত ভুল বা দোষে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটেছে, সামরিক বা বেসামরিক তদন্তকারীরা কখনো তার সমাধান করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর গভীর সন্দেহ রয়েছে।
ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় মার্কিন বাহিনীর দায় অস্বীকার করার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “কেউ কেউ দাবি করেছে এটা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, কিন্তু আমার মতে হয়তো তা ছিল না। এটি যুক্তরাষ্ট্রেরই ক্ষেপণাস্ত্র ছিল—এমনটা বিশ্বাস করার মতো নিরেট কোনো প্রমাণ বা তথ্য আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখিনি এবং আমার মনে হয় না যে এই কাজ আমাদের দ্বারা সম্পন্ন হয়েছে।” অথচ মার্চ মাসেই রয়টার্সের প্রকাশিত অন্য একটি বিশেষ প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, মূলত মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর বহু পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ ‘টার্কেটিং ডেটা’ বা লক্ষ্যবস্তুর তথ্য ব্যবহারের মারাত্মক লজিস্টিক ভুলের ফলেই নিরপরাধ শিশুদের ওই স্কুলটি মার্কিন বোমারু বিমানের প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছিল।
মিনাবের স্কুলে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় (OHCHR) একে ‘সম্পূর্ণ ভয়াবহ ও যুদ্ধাপরাধের সমতুল্য’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। হামলার পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন যে, ইরান নিজেই নিজের স্কুলে এই হামলা চালিয়েছে। তবে পরবর্তীতে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) কর্তৃক নতুন ভিডিও ফুটেজ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের ফরেনসিক বিশ্লেষণের প্রমাণ হাজির করার পর ট্রাম্প সুর নরম করেন এবং জানান যে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ‘কেউ’ ইচ্ছা করে বা জেনেশুনে বিদ্যালয়টিতে হামলা চালায়নি।



