আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের সাথে মিল রেখে বাংলাদেশের তৃতীয় পর্যায়ের (টারশিয়ারি) স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়াকে নিবিড়ভাবে যুক্ত করার তাগিদ দিয়েছেন কূটনীতিক, স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞগণ। আঞ্চলিক পর্যায়ে উভয় দেশই বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করায় এই পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসার অভাবে প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশী রোগী বিদেশমুখী হচ্ছেন। বিপুল সংখ্যক রোগী থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। এছাড়া বছরে প্রায় ১ থেকে ২ লাখ মানুষ চিকিৎসা নিতে প্রতিবেশী ভারতে ভ্রমণ করছেন। ফলে দেশ থেকে কোটি কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে চলে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, এই বহির্গমনের আনুমানিক আর্থিক পরিমাণ চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ।
চীনের বিনিয়োগে ইতোমধ্যে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল, চট্টগ্রামে একটি জেনারেল হাসপাতাল এবং ঢাকায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে নিরপেক্ষ দেশ হওয়ায় জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে স্বাস্থ্য অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও ফলপ্রসূ হবে। সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল পরিচালনাকারী ‘আইএইচএইচ হেলথকেয়ার’-এর সর্ববৃহৎ শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে জাপানের ‘মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি’। দক্ষিণ কোরিয়াও ইতোমধ্যে ঢাকায় বিএসএমএমইউ-এর অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল গঠনে অর্থায়ন করেছে।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও তদারকির অভাব স্থানীয় চিকিৎসা শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে বড় বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিমত জানান জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপকগণ। সাবেক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক উপদেষ্টা ড. মুজাহেরুল হক মত প্রকাশ করেন যে, উন্নত নার্সিং, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সঠিক মানবসম্পদ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশও ভারত বা থাইল্যান্ডের মতো উত্তর-পূর্ব ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্য ও নেপালের রোগীদের লক্ষ্য করে চিকিৎসা পর্যটনের একটি সফল হাব হয়ে উঠতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে, আগামী ২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও মেগা প্রকল্পসমূহে বৈপ্লবিক অগ্রগতি আনবে বলে আশা করছেন খোদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।



