আন্তর্জাতিক ও বিকল্প উৎস থেকে আমদানির মাধ্যমে দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি দু-এক দিনের মধ্যেই পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার দপ্তর থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন অবকাঠামো তৈরি ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে সংকটমুক্ত করার চেষ্টা চলছে।
রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা: সংকট ব্যবস্থাপনা থেকে টেকসই জ্বালানি রূপান্তর’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানান প্রধান অতিথি ও প্রধান উপদেষ্টার অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল। আর্থিক খাতটি চরম লোকসানে নিমজ্জিত ছিল এবং কৌশলগত কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ছিল না। বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে দেশকে আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দেয়, যা বর্তমান শিল্প খাত ও বিনিয়োগকে এক ধরনের কৃত্রিম চাপের মুখে ফেলেছে।
বর্তমান সরকার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একমুখী ব্যবস্থার বদলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মিশ্র জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন এলএনজি অবকাঠামো তৈরি, পাইপলাইন সংস্কার এবং দেশের অভ্যন্তরে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ জোরদার করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কে ড. তিতুমীর বলেন, সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরেই এটি উৎপাদনে যাবে। পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ২০২৭ সালে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে সচল করা সম্ভব হবে। সরকার কোনো তাড়াহুড়ো না করে সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এ ছাড়া বড় আকারের ভিএলসিসি ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে সরাসরি গ্যাস ও এলপিজি আমদানি করতে পারলে দেশে এলপিজির দাম অনেকটাই কমে আসবে। বিগত সরকারের আমলে গড়ে ওঠা অলিগার্কদের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরি হলে এলপিজি আমদানির সুফল সরাসরি জনগণ পাবে। স্বল্পমেয়াদি সুবিধার বদলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে জ্বালানি নীতি তৈরি করা হচ্ছে।



