― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন ও ছয় গুরুত্বপূর্ণ বিলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা চীফ হুইপের

TBM Report ||

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বিরোধী দল থেকে নামের তালিকা পাওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে এসব কমিটি গঠনের কাজ চূড়ান্ত করা হবে। অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যদিবস ৫, ৭ বা ১০ দিন নির্ধারিত হলেও প্রশাসনিক ও আইনি প্রয়োজনে এর মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে। বুধবার সংসদ ভবনে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।

চীফ হুইপ জানান, আসন্ন অধিবেশনে সম্পত্তি হস্তান্তর, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু প্রস্তাবিত বিল উত্থাপন করা হবে। নতুন সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে তিনি বলেন, বাবা-মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও তারা বেঁচে থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ আইনি অধিকার বজায় থাকবে। মূলত হস্তান্তরের পর সন্তান যেন কোনোভাবেই বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রতিরক্ষামূলক আইন করা হচ্ছে

সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে চীফ হুইপ স্পষ্ট করেন, গণমানুষ জুলাই সনদের স্পষ্ট ধারাবাহিকতায় জনরায়ে ইশতেহার দেখে সরকার নির্বাচিত করেছে। সেই আস্থার ভিত্তিকেই ধারণ করে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানে বিরামচিহ্নের পরিবর্তনও সংস্কারেরই অংশ। তিনি আরও জানান, ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিএনপি থেকে ৭ জন, জামায়াত থেকে ৫ জন এবং অন্যান্য দল ও বিরোধী দল থেকে প্রয়োজনীয় প্রতিনিধিত্ব রাখা হবে। গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গণতন্ত্র ভারতের মতো সংবিধানে পরিমার্জন আনা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক ধারা

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মনি আহ্বান জানান, রাজপথে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা তৈরি করে স্বৈরাচারী শক্তির প্রত্যাবর্তনের পথ যেন সুগম করা না হয়। দীর্ঘ ১৭ বছরের জেল, গুম ও রক্তের বিনিময়ে যে রাজনৈতিক অর্জন এসেছে, তাকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। বিরোধী দলের মূল দায়িত্ব হলো সংসদে বসে যুক্তিভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমূলক সমালোচনা করা

বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে তিনি বলেন, মাত্র ছয় মাসের মধ্যে বিগত ১৭ বছরের চেপে বসা সংকট দূর করা অলৌকিক ঘটনা নয়। একটি সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণেই যেখানে অন্তত দুই বছর লাগে, সেখানে পুরো দেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ রাতারাতি মেটানো সম্ভব নয়। বিগত সরকারের দায়মুক্তির আইনের সুযোগ নিয়ে হওয়া চুক্তি এবং আদানির বিদ্যুৎ চুক্তিকে তিনি ‘গর্হিত অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তা সংশোধনে জাতির সমর্থন ও ধৈর্য কামনা করেন

সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংক্ষিপ্ত অধিবেশনেই সরকার তাদের নতুন সংস্কার পরিকল্পনা ও আইনি রূপরেখার বড় অংশ সংসদে উত্থাপন করতে যাচ্ছে। যা দেশের দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক রূপান্তরকে বেগবান করবে