জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কাতার। দোহায় আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই প্রতিশ্রুতি দেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকে তাঁরা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, জ্বালানি খাত এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকের শুরুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কাতারি নেতৃত্বকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাতারের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ড. রহমান একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে বাংলাদেশের সংহতি প্রকাশ করেন।
বৈঠকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ। তিনি জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনে কাতারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনাকালে কাতারি প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি ‘ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও চলমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাতার সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রহমান কাতারের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান কাতারের পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সুলতান বিন সালাহ আল-মুরাইখির সঙ্গে আলাদা এক বৈঠকে মিলিত হয়ে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিমা ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



