নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকে ছাড়িয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা; এখন পর্যন্ত ৫ হাজার ২১ জন আক্রান্ত ও ২ হাজার ৩৭৮ জনের মৃত্যু
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। একই সঙ্গে সংক্রমণ যে গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচেষ্টাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৫ হাজার ২১টি ইবোলা সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ হাজার ৩৭৮ জনের। ফলে সংক্রমণের তুলনায় মৃত্যুর হারও অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেশটির প্রত্যন্ত ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, মানুষের বাস্তুচ্যুতি এবং এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ব্যাপক মানুষের চলাচল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং দেশটির অভ্যন্তরে ও আন্তর্জাতিকভাবে ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রাদুর্ভাবের বিস্তারের গতি অতীতের বড় ইবোলা সংক্রমণের তুলনায় নজিরবিহীন। প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর ভাইরাসটি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় প্রায় তিন গুণ দ্রুত ছড়িয়েছে। ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা মহামারি। এরই মধ্যে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইবোলা সংক্রমণে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করলেও সংঘাত, দুর্বল স্বাস্থ্য অবকাঠামো, স্থানীয় মানুষের অনাস্থা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের অনুসরণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।



