ছাত্র ও যুবসমাজকে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দূরে রাখতে জারি করা বিতর্কিত নির্দেশনা তীব্র সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতের তামিলনাড়ু সরকার। বিরোধী দলগুলোর টানা প্রতিবাদ ও জনঅসন্তোষের মুখে বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬) অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
মূলত বামপন্থী দল এবং তামিলনাড়ু ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাতে শিক্ষার্থী ও তরুণরা অংশ না নিতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে গত ১৪ আগস্ট এক বিতর্কিত আদেশ জারি করেছিল তামিলনাড়ু স্কুলশিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। ‘অতি জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, তরুণেরা যাতে বিরোধী শিবিরের বিক্ষোভের ‘তাগিদে পা না দেন’, সে বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। এ নিয়ে গৃহীত পদক্ষেপের বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিল রাজ্য সরকার।
তবে নির্দেশিকাটি জনসমক্ষে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সিজেপির জাতীয় সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক’ এবং বিজয় সরকারের ‘অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে তীব্র সমালোচনা করেন। দিল্লিভিত্তিক শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বিজয়ের প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত বলে দাবি করেন বিরোধী নেতারা।
অন্যদিকে বিজেপির মতো কিছু রাজনৈতিক দল প্রাথমিক পর্যায়ে তামিলনাড়ু সরকারের এই বিধিনিষেধকে সমর্থন জানিয়েছিল। বিজেপি নেতা বিনোজ পি সেলভাম বিরোধী ও সিজেপিকে ‘রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এজেন্ট’ বলে আখ্যা দেন।
সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু অধিকার আদায়ের দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল সিজেপি। সেই ঘটনার পরপরই তামিলনাড়ুতে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে লাগাম টানতে তৎপর হয় স্থানীয় প্রশাসন। সরকারের এই আদেশ প্রত্যাহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক প্রতিবাদ সফল হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



