শিল্পকলা কেবল নন্দনতত্ত্বের চর্চা নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনীতির এক শক্তিশালী পরিপূরক মাধ্যম। সিঙ্গাপুরের ৬১তম জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যে যৌথ শিল্প-সংস্কৃতির চমৎকার এক নিদর্শন শুরু হয়েছে ধানমন্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকায়। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের লা গ্যালারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ‘ব্রিজিং হরাইজন্স: অ্যা ভিজ্যুয়াল ডায়লগ অব নেচার, হেরিটেজ অ্যান্ড ইনোভেশন’ শীর্ষক বিশেষ যৌথ শিল্প প্রদর্শনীর।

ঢাকাস্থ সিঙ্গাপুর হাইকমিশন এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দুই দেশের নিবিড় সম্পর্ক, প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও আধুনিক সৃজনশীলতার অভিন্ন রূপায়ণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য শিল্পী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী এবং আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া শঁম্ভো।

প্রদর্শনীটির কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক হারুন অর রশীদ টুটুল। তাঁর নিখুঁত ভাবনায় প্রকৃতি, পরিবেশ, শিকড়ের গল্প ও আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার নানা অনুষঙ্গ যৌথ এই প্রদর্শনীর ক্যানভাসে প্রাধান্য পেয়েছে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি মিচেল লি সাংস্কৃতিক কূটনীতির অনন্য গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, “অফিসিয়াল কূটনীতি যেখানে শেষ হয়, শিল্পকলা সেখানে মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক মেলবন্ধন তৈরি করে। ২০২৭ সালে সিঙ্গাপুর ও বাংলাদেশ যখন নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণ জয়ন্তী ছাড়িয়ে ৫৫ বছর উদযাপনের প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে, তখন এই আয়োজন দুটি দেশের বাণিজ্য ও রাজনীতির বাইরেও জোরদার পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটায়।”

আয়োজনে সিঙ্গাপুরের জাতীয় সংগ্রহশালার প্রতিনিধিত্বশীল শিল্পকর্মের পাশাপাশি বাংলাদেশের ১৪ জন খ্যাতনামা মাস্টার আর্টিস্টের শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। একই সঙ্গে একটি জাতীয় উন্মুক্ত আহ্বানের মাধ্যমে নির্বাচিত ৬ জন উদীয়মান বাংলাদেশি তরুণ শিল্পীর কাজ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যা প্রবীণ ও নবীনের শিল্পধারার এক চমৎকার মেলবন্ধন সৃষ্টি করেছে।

শিল্প প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে আগামী ১৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ধানমন্ডির লা গ্যালারিতে দর্শক ও শিল্পপ্রেমীরা এই শিল্পকর্মগুলো উপভোগ করতে পারবেন।



