ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক কাঠামোতে ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছে দেশটির স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এটিএম রকেবুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের এই আবাসস্থলে বর্তমানে বৈধ ও অনিয়মিত অভিবাসী মিলিয়ে প্রায় ২ লাখের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সরকারকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে ঢাকার সাথে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
রাষ্ট্রদূত এটিএম রকেবুল হক উল্লেখ করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীরা বাংলাদেশে প্রায় ১.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম শীর্ষ উৎস। বিশেষ করে ইতালির ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতে অনাবাসী এশীয় উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশিরা প্রথম সারিতে রয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব এবং শ্রমবাজারে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তারা কেবল নিজেদের ভাগ্যই পরিবর্তন করেননি, বরং ইতালি এবং সামগ্রিক ইউরোপীয় অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির এক মজবুত সেতু বন্ধন তৈরি করেছেন। তবে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘরে থাকলেও আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ইতালির প্রায় ৪০ হাজার ভিসার জট প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্লুসি ডিক্রি’ (Flussi Decree)-এর আওতায় কাজের উদ্দেশ্যে বৈধভাবে প্রবেশে বিপুল আগ্রহ তৈরি হওয়ায় আবেদনের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। তবে কিছু অসাধু দালাল চক্র এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক জাল নথি ব্যবহারের চেষ্টা করায় ইতালীয় দূতাবাস স্ক্রুটিনি বা নথিপত্র যাচাইয়ের কড়াকড়ি বাড়াতে বাধ্য হয়, যা এই দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণ। তবে ঢাকার ইতালীয় কনস্যুলার সেকশন বর্তমানে তাদের জনবল বাড়িয়েছে এবং যাচাইকরণ পদ্ধতি আরও কঠোর করেছে যাতে প্রকৃত কোনো আবেদনকারী বঞ্চিত না হন। রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস দ্রুত এই ভিসা সংকট নিষ্পত্তিতে ইতালির সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছে।
ইউরোপ ও ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। বর্তমান সরকার এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং ইতালির সাথে যৌথভাবে ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি পার্টনারশিপ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আইনি ও নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। একই সাথে বাংলাদেশে চলমান সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুযোগ নিয়ে ইতালির বিশ্ববিখ্যাত সবুজ শক্তি (Green Energy), জাহাজ নির্মাণ, চামড়া ও আইসিটি খাতের প্রযুক্তি ও এফডিআই (FDI) আকর্ষণে বর্তমান সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।



