― Advertisement ―

ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে ছাত্র জোটের বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেল কানেকটিভিটি বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তির প্রতিবাদে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে...

নভেম্বরে তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আগামী নভেম্বরে তুরস্কের দক্ষিণ উপকূলীয় শহর আন্টালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ‘কপ৩১ ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১১ ও ১২ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী এই বিশ্ব শীর্ষ সম্মেলনে ডজনখানেক দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের বর্তমান বিএনপি সরকার এই সংকট মোকাবিলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফর ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক পরিবেশ কূটনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তুর্কি পরিবেশ মন্ত্রী ও কপ৩১-এর মনোনীত প্রেসিডেন্ট মুরাত কুরুম এক চিঠিতে নিশ্চিত করেছেন যে, ৯-২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান বিশ্ব জলবায়ু আলোচনার তৃতীয় ও চতুর্থ দিনে (বুধ ও বৃহস্পতিবার) এই লিডার্স সামিট অনুষ্ঠিত হবে, যা সম্মেলনে রাজনৈতিক গতিশীলতা ও দৃশ্যমানতা তৈরিতে মূল ভূমিকা রাখবে। এর আগে প্রাক-কপ (Pre-COP) প্রস্তুতিমূলক বৈঠকগুলো ৫-৮ অক্টোবরের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি এবং টুভালুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভৌগোলিক কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১৭ শতাংশ ভূখণ্ড সমুদ্রস্তরে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই বৈশ্বিক মঞ্চ নিজেদের দাবি তুলে ধরার একটি অন্যতম প্রধান সুযোগ।

এই বহুপাক্ষিক জলবায়ু ফোরামের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করতে পারেন বলে জোরালো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই শীর্ষ বৈঠকে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য আঙ্কারার অব্যাহত মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে জবাবদিহিতা নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা হবে। একই সাথে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে বর্তমান ১.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে আগামী বছরগুলোতে ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রোডম্যাপ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই সফরে ঢাকা ও আঙ্কারার মধ্যে বেসামরিক ও সামরিক খাতে সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ভারতের একচ্ছত্র কৌশলগত আধিপত্য ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে তুরস্কের সাথে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ করতে চায় বাংলাদেশ। গত মাসে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠক এই আসন্ন শীর্ষ সফরের গ্রাউন্ডওয়ার্ক হিসেবে কাজ করেছে।