― Advertisement ―

ঢাকার সিনেপ্লেক্সে সিঙ্গাপুরের চলচ্চিত্র ‘অ্যামিবা’

ঢাকার বুকে বৈশ্বিক চলচ্চিত্রের এক নান্দনিক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে সিঙ্গাপুর হাইকমিশন। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই, ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি আধুনিক সিনেপ্লেক্সে এই বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর পর্দা উন্মোচিত হয়। মূলত ৩৭তম সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালকে কেন্দ্র করে এ দেশের সংস্কৃতিপ্রেমীদের জন্য এই চমৎকার সুযোগটি তৈরি করা হয়েছিল।

উক্ত কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনটি ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুরের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং নিখুঁত দিকনির্দেশনায় সম্পন্ন হয়। প্রদর্শনীতে তান সিইউ পরিচালিত বহুল আলোচিত ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “অ্যামিবা” বড় পর্দায় দেখানো হয়। এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও বাস্তবতাঘেঁষা সিনেমা।

চলচ্চিত্রটির মূল গল্প আবর্তিত হয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক স্কুল ড্রপআউট বা বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া কিশোরী ছু শিন ইউ-কে কেন্দ্র করে। সে যখন সিঙ্গাপুরের ঐতিহ্যবাহী ও কঠোর শাসনতন্ত্রের জন্য পরিচিত ‘কনফুসিয়াস গার্লস সেকেন্ডারি স্কুল’-এ পুনরায় শিক্ষা জীবন শুরু করে, তখন চারপাশের শ্বাসরুদ্ধকর নিয়মের বেড়াজালে নিজেকে মানিয়ে নিতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়।

এই চরম মানসিক টানাপোড়েনের মাঝে শিন ইউ তার স্কুলে আরও তিনজন সমমনা বান্ধবীর দেখা পায়। তারা হলো সাঁতারু ভ্যানেসা, বিত্তশালী পরিবারের সন্তান সোফিয়া এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল জিনা। এই চার কিশোরী মিলে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য স্কুলের প্রথাগত সমাজ ও কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারির বিরুদ্ধে একটি অনানুষ্ঠানিক গোপন দল গড়ে তোলে।

সোফিয়ার পারিবারিক গাড়ির চালক আঙ্কেল ফুনের মুখ থেকে পুরোনো গ্যাংস্টারদের গল্প শুনে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা হ্যান্ডহেল্ড ক্যামকর্ডারে নিজেদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মুহূর্তগুলো বন্দি করতে থাকে। চুইংগাম নিষিদ্ধের মতো চরম সুশৃঙ্খল একটি রাষ্ট্রে এই অবুঝ কিশোরীদের এই রূপক বিদ্রোহ তাদের জীবনকে এক জটিল সংকটের মুখে দাঁড় করায়।

পরিচালক তান সিইউ তার প্রথম নির্মাণেই সিঙ্গাপুরের জাঁকজমকপূর্ণ আধুনিকতার পেছনে থাকা তরুণ প্রজন্মের নীরব একাকিত্ব ও প্রতিবাদের ভাষা সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কাস্টের চমৎকার অভিনয়, ‘সিংলিশ’ ভাষার ব্যবহার সিনেমাটিকে অনন্য করেছে। তবে কিছু অলৌকিক সাবপ্লট এবং অস্পষ্ট সমাপ্তি সাধারণ দর্শকদের কিছুটা বিভ্রান্ত করতে পারে।

৯৮ মিনিটের এই চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যে টরন্টো ও বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে দারুণ প্রশংসা কুড়িয়েছে। এছাড়াও এটি এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডসে শ্রেষ্ঠ যুব চলচ্চিত্র এবং তাইওয়ানের বিখ্যাত গোল্ডেন হর্স অ্যাওয়ার্ডসে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক ফেডারেশন প্রদত্ত ‘ফিপরেস্কি পুরস্কার’ সহ হংকং ও চীনে একাধিক শীর্ষ সম্মাননা লাভ করেছে।