― Advertisement ―

৪ মাস পর আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা ৯ জুলাই; শিয়া রীতি মেনে যেভাবে সংরক্ষিত ছিল মরদেহ

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইসরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় দাফনের জন্য তেহরানে আনা হয়েছে। আগামী ৯ জুলাই (২০২৬) তাঁর চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন করার লক্ষে দেশটিতে সাত দিনব্যাপী নজিরবিহীন রাষ্ট্রীয় শোকগাথা ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বৃহত্তম ঐতিহাসিক ও আবেগঘন বিয়োগান্তক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর খামেনির কফিন জনসমক্ষে আনায় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে তাঁর মরদেহ সুরক্ষার বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানামুখী কৌতূহল ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

ইসলামি শরিয়াহ ও আইন অনুযায়ী মরদেহে কৃত্রিম রাসায়নিক প্রলেপ বা ‘এম্বামিং’ (Embalming) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হওয়ায় ইরানি কর্তৃপক্ষ খামেনির ক্ষেত্রে শতভাগ প্রাকৃতিক শীতলীকরণ বা কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তির আশ্রয় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থা বিষয়ক গবেষক ড. মোহাম্মদ ওমরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শিয়া ফিকহ বা ধর্মীয় আইনে দাফন বিলম্বিত করার এবং মরদেহ বরফ হিমাগারে সংরক্ষণের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে বিদায় অনুষ্ঠান বারবার পিছিয়ে দেওয়া এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের স্থান গোপন রাখার প্রবণতা প্রমাণ করে যে, মরদেহটি সংরক্ষণে কোনো রাসায়নিক বিকৃতি না করা হলেও তা উন্মুক্ত প্রদর্শনের অবস্থায় ছিল না।

সাধারণ শরিয়াহ রীতিতে মৃত্যুর দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাফনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে চার মাসের এই বিলম্ব ছিল সম্পূর্ণ কৌশলগত। মূলত ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক সংঘাত এবং চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই তেহরান প্রশাসন এই প্রকাশ্য দাফন প্রক্রিয়া এতকাল স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছিল। মাঝের দীর্ঘ সময়ে খামেনিকে গোপনে সাময়িকভাবে সমাহিত বা দাফন (তাফউইজ) করা হয়েছে বলে যে আন্তর্জাতিক গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, ইরানি কর্মকর্তারা তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, সম্পূর্ণ সময়জুড়ে ধর্মীয় শুচিতা এবং আইনি কাঠামো রক্ষা করেই মরদেহ হিমাগারে সংরক্ষিত ছিল।

আসন্ন সপ্তাহব্যাপী জানাজার নামাজ ঘিরে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা ইসরায়েলকে যেকোনো ধরনের সামরিক দুঃসাহস বা ‘ভুল হিসাব’ না করার ব্যাপারে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে খামেনির অবর্তমানে ঐতিহাসিক এই জানাজার ইমামতি কে করবেন, তা নিয়ে এখনো এক ধরনের রহস্য ও প্রাতিষ্ঠানিক গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, বাবার মৃত্যুর পর থেকে অন্তরালে থাকা নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি এই জানাজায় নেতৃত্ব দিতে পারেন। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে চার মাস হিমঘরে থাকা ইরানের এই প্রভাবশালী নেতার মরদেহ চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে মাশহাদের পবিত্র ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে।