ইরান ও তার প্রতিপক্ষ দেশগুলোর মধ্যে চলমান আপেক্ষিক শান্তাবস্থাকে কেবল একটি সাময়িক বিরতি হিসেবে দেখছে তেহরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি চললেও ইরানের সামরিক বাহিনী এক মুহূর্তের জন্যও তাদের প্রস্তুতি থামিয়ে রাখেনি। বরং এই সময়কে তারা ব্যবহার করেছে আক্রমণাত্মক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা হালনাগাদ করা এবং সামরিক সরঞ্জামের প্রযুক্তিগত মানোন্নয়নের কাজে। তাঁর মতে, সেনাবাহিনী এই পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচনা করছে না।
ব্রিগেডিয়ার আকরামিনিয়া অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো শত্রুপক্ষের ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই। ফলে প্রতিবার যখনই লড়াই থেমেছে, ইরান তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তুর একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক ‘ডাটাবেজ’ বা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করেছে। এটি কেবল রক্ষণাত্মক কৌশল নয়, বরং প্রয়োজনে পাল্টা আঘাত হানার জন্য একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। সেনাবাহিনী যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রশিক্ষণের ধরণ এবং রণকৌশলেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
ইরানি এই সেনা কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, দেশটির সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ও আধুনিকায়নের কাজ এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি গতিশীল। তিনি দাবি করেন যে, ইরানের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত একটি ‘যুদ্ধকালীন অবস্থা’র মতোই রয়ে গেছে। তাই সামরিক নজরদারি এবং নতুন অস্ত্রশস্ত্রে বাহিনীকে সজ্জিত করার প্রক্রিয়াটিতে কোনো বিরতি দেওয়া হয়নি। তেহরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান নিজেকে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে মনে করছে।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে ব্রিগেডিয়ার আকরামিনিয়া প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আবারও কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ নতুন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও রণকৌশলের মুখোমুখি হতে হবে। ইরান এখন কেবল গতানুগতিক যুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং লড়াইয়ের নতুন নতুন ক্ষেত্র ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। তাঁর এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান না আসা পর্যন্ত ইরান তার সামরিক শক্তি প্রদর্শন ও প্রস্তুতি থেকে এক চুলও সরবে না।



